• অারও

আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে ছিল বনানীর ধর্ষণকাণ্ড-আপন জুয়েলার্স

  ইউসুফ সোহেল

৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিদায়ী বছরের আলোচিত ধর্ষণকা- ছিল বনানীর রেইন-ট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়পড়–য়া দুই শিক্ষার্থীর ধর্ষণের ঘটনা। এ ঘটনায় সামনে চলে আসে আপন জুয়েলার্স। বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে গত ২৮ মার্চ রাতে ধর্ষিত ও মারধরের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়পড়–য়া ওই ২ শিক্ষার্থী। ধর্ষণের ঘটনাটি ভিডিও করেছিল ধর্ষকরা। এই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলও করা হয়। প্রায় দেড় মাস পর এই ঘটনায় বনানী থানায় মামলা হয়।

ভুক্তভোগী তরুণীদ্বয় পরে অভিযোগ করেন ধর্ষণ ও মারধরের ঘটনায় মামলা করতে গেলে আসামিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বনানী থানা পুলিশ প্রথমে তাদের অভিযোগ আমলেই নেয়নি। পরে পুলিশের গাফিলতির বিষয়টি গণমাধ্যমে এলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপর বনানী থানা পুলিশ মামলা নিতে বাধ্য হয়।

মামলায় আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু নাঈম আশরাফ, ঢাকার পিকাসো রেস্তোরাঁর অন্যতম মালিক রেগনাম গ্রুপের এমডি মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান সাকিফ এবং সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী রহমত আলী আসামি হয়।

পুলিশের তদন্তকালেই দিলদার আহমেদ ধর্ষণের শিকার দুই তরুণীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাদের বিব্রতকর ছবি প্রকাশেরও হুমকি দেন। পুরো ঘটনার জন্য সাফাতের সাবেক স্ত্রী এশিয়ান টিভির সাবেক পরিচালক ফারিয়া মাহবুব পিয়াসাকে দায়ী করেন তিনি। দিলদার পুত্রসহ ধর্ষণকা-ের আসামিদের গ্রেপ্তারে আন্দোলন শুরু হয়। অবশেষে সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফসহ ৫ আসামি গ্রেপ্তার হন। তদন্ত শেষে আদালতে ওই ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, সাফাত ও নাঈম ধর্ষণে সরাসরি অংশ নেন এবং বাকিরা তাদের সহযোগিতা করেন।

আলোচিত এই ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাতের অপকর্মের প্রভাব পড়ে তার বাবা দিলদার আহমেদের প্রতিষ্ঠান আপন জুয়েলার্সের ওপরও। ‘ডার্টি মানি’ বা অবৈধভাবে অর্জিত টাকার অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শাখায় দফায় দফায় অভিযান চালায় শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। তারা আপন জুয়েলার্সের ডিএনসিসি মার্কেট, উত্তরা, মৌচাক, সীমান্ত স্কয়ার এবং সুবাস্তু শাখা থেকে প্রায় ১৫ মণ স্বর্ণ ও ৪২৭ গ্রাম হীরা জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়। জব্দকৃত এসব স্বর্ণালঙ্কারের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় গত ১২ আগস্ট শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর মুদ্রাপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে আপন জুয়েলার্সের ৩ মালিক দিলদার সেলিমসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৫টি মামলা করে। পরে এসব মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে গত ২৪ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন দিলদারসহ তিন আসামি।

কয়েকটি মামলায় তাদের জামিন পেলেও কর ফাঁকির মামলায় আটকে যান তারা। নিম্ন আদালত থেকে জামিন না পেয়ে ওই ৩ জন উচ্চ আদালতে আশ্রয় নেন। পরে গত ১৪ ডিসেম্বর দিলদারসহ আপন জুয়েলার্সের তিন মালিককে জামিন দেন হাইকোর্ট। অর্থপাচার মামলায় আদালতের রুলে জামিনও পান তারা। কিন্তু ১৮ ডিসেম্বর আপন জুয়েলার্সের তিন মালিকের হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ২ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিতের আদেশ দেন আপিল বিভাগ। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়পড়–য়া দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণকা-ে অভিযুক্ত ৫ আসামি ও আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার ৩ সহোদর কারান্তরীণ রয়েছেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে