লোকসংস্কৃতির উপাদানে ইউনেসকোর স্বীকৃতি

  চপল মাহমুদ

৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির উপাদানগুলো ইউনেসকো কর্তৃক বিশ্ব স্বীকৃতি অর্জন করতে শুরু করেছে। স্বীকৃতির এসব তালিকায় প্রথমে রয়েছে বাউল গান। এর পর জামদানি ও মঙ্গল শোভাযাত্রা। এর আগে বাংলার ইলিশ, রসগোল্লাসহ পাটের জেনোম আবিষ্কারও বিশ্ব স্বীকৃতি পেয়েছে। বাদ যায়নি ভীষণদর্শন রয়েল বেঙ্গল টাইগার এবং সুন্দরী রূপসী চিত্রা হরিণের বিচরণস্থল সুবৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনও। এ ছাড়াও ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় বাগেরহাটের ‘ঐতিহাসিক মসজিদের শহর’, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের ধ্বংসাবশেষের নামও রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের আরেকটি তুঙ্গস্পর্শী অর্জন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ‘মেমোরি অব দি ওয়ার্ল্ড’ বা ‘বিশ্বের স্মৃতি’ হিসেবে ইউনেসকোর স্বীকৃতি। সবশেষ এবার বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় ঠাঁই করে নিয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি। মানবজাতির উল্লেখযোগ্য মনোগত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনে ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে ইউনেসকো একটি সমঝোতা চুক্তি অনুমোদন করে। এই সমঝোতা চুক্তির অধীনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মনোগত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১৭১ রাষ্ট্র এই সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের ১১ জুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ।

২০১২ সাল থেকে সরকারের পক্ষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় মানবজাতির মনোগত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য উপাদান পাঠানো শুরু করে। এরই ফলে ইউনেসকোর প্রথম স্বীকৃতি লাভ করে বাংলাদেশের বাউল সংগীত। পরে ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি বুননশিল্প লাভ করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। গত বছর মঙ্গল শোভাযাত্রা একই স্বীকৃতি লাভ করে। চলতি বছর বিশ্বের অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেল সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি। জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো লোকশিল্পের অন্যতম অনুষঙ্গ বাংলাদেশের শীতলপাটিকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জাতীয় জাদুঘর শীতলপাটির বয়ন পদ্ধতির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে কমিটির কাছে প্রস্তাব উত্থাপন করে। ইউনেসকোর ‘ইন্টারগভর্নমেন্টাল কমিটি ফর দ্য সেফগার্ডিং অব দ্য ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজের দ্বাদশ অধিবেশনে আমাদের শীতলপাটিকে ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি ঘোষণা করা হয়। এটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গৌরবের। এ স্বীকৃতির মাধ্যমে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমৃদ্ধি আরও স্পষ্ট রূপ পেল। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চিরদিনের জন্য স্থান পেয়েছে বাংলার ইলিশ। এর আগে ঠাঁই হয়েছে ঐতিহ্যসম্মত জামদানি শাড়ির। ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এই দুটো পণ্য। প্যাটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তর সূত্রের খবর, জিওগ্রাফিক্যাল ইনডেক্স বা ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে ইলিশ মাছের নাম নিবন্ধন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) ও বিশ্ব মেধাস্বত্ব কর্তৃপক্ষের (ডব্লিউআইপিআরও) যৌথ সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় সব দেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কিত মেধাস্বত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে থাকে। সে অনুযায়ী ইলিশ এখন বাংলাদেশের পণ্য। অনুরূপ জামদানি, শীতলপাটিও।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে