• অারও

আইএসের পতন হলেও আতঙ্ক থেকেই গেল

  যুবা রহমান

৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বে ভয়াল থাবা বসানো সন্ত্রাসীগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) গেল বছরেই আনুষ্ঠানিক পতন ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৪ সালের মাঝামাঝি ‘খেলাফত রাষ্ট্রের’ ঘোষণা দিয়ে গোষ্ঠীটি ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল এলাকা দখল করে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছিল। তিন বছরের মাথায় সেই দাপট হারিয়ে নিঃশেষ হয়ে গেছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি বছরের শেষ প্রান্তে ৯ ডিসেম্বর ইরাককে আইএস মুক্ত ঘোষণা করেন। দেশটির বড় শহর মসুল থেকে আইএস বিতাড়নের পর আর কিছু ছোট শহর জঙ্গি দখলে ছিল। বছর শেষে সেগুলোও আইএসের থাবা থেকে মুক্ত হয়। তিন বছর পর মসুলের খ্রিস্টান সম্প্রদায় বড়দিনের অনুষ্ঠানে আনন্দের সঙ্গে যোগ দিতে পেরেছিলেন। অন্যদিকে সিরিয়া থেকেই আইএস বিতাড়িত হয়েছে। গত তিন বছর সিরিয়ার যে প্রদেশকে আইএসের ‘রাজধানী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল, সেই রাক্কা গেল বছরই দখলমুক্ত হয়েছে। যদিও বলা হচ্ছেÑ রাক্কা থেকে আইএস জঙ্গিদের চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে রাক্কা এখন আইএসমুক্ত এ কথাই সত্যি। সিরিয়া যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী রাশিয়া নিজেদের সেনা ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সব মিলিয়ে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস নেই বললেই চলে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, আইএস সাম্রাজ্যের পতন হলেও বিশ্ব এখনো আইএসের হুমকিতে রয়েছে। সেটি আঁচ করা যায়, গোষ্ঠীটির পতনকালেও বিভিন্ন দেশে হামলার বিস্তার দেখে। গেল বছর আফগানিস্তানে প্রায় ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর বেশিরভাগই দায় স্বীকার করেছে আইএস। এ ছাড়া প্রতিমাসেই কোনো না কোনো দেশে হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটির সদস্যরা। গেল বছর শুরুই হয়েছিল আইএসের হামলা দিয়ে। ২০১৭ সালের প্রথম প্রহরে তুরস্কের ইস্তানবুলের একটি নাইটক্লাবে এক বন্দুকধারী বিদেশি পর্যটকসহ ৩৯ জনকে গুলি করে হত্যা করে। পরে ওই ঘটনার দায় স্বীকার করে আইএস। গত বছর কয়েক দফা আক্রান্ত হয়েছে যুক্তরাজ্য। হামলা হয়েছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কাছেও। ম্যানচেস্টারে আরিয়ানা গ্র্যান্ডের কনসার্টে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন ২২ জন। অক্টোবরে সোমালিয়ার মোগাদিসুতে ট্রাক বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় পাঁচশ। পরের মাসে মিসরের সিনাই উপত্যকায় মসজিদে বন্দুকধারীদের হামলায় তিন শতাধিক মুসল্লির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে নাইজেরিয়ায় আরেক মসজিদে হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হন। গত বছরই আইএস প্রথমবারের মতো ইরানে হামলা চালায়। দেশটির পার্লামেন্টসহ দুই জায়গায় একসঙ্গে হামলা চালায় আইএস। কাজেই আইএসের পতনের পাশাপাশি আতঙ্ক নিয়েই ২০১৮ এলো বিশ্বের দোরগোড়ায়।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে