• অারও

পেঁয়াজের ঝাঁজে ভোক্তার অস্বস্তি

  রুমানা রাখি

৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পেঁয়াজ কাটলে চোখে জল আসে, সেই কথা ভেবে এক কবি পেঁয়াজের সঙ্গে দুঃখের মিল খুঁজে পেয়েছিলেন। বছরজুড়ে পেঁয়াজের ঝাঁজে চোখে জল আনতে না পারলেও চড়া দামের কারণে ক্রেতার চোখে পানি এসেছে। পেঁয়াজ নিয়ে অস্বস্তিতে ছিলেন ভোক্তারা। এক বছরের মধ্যে এ পণ্যের মূল্য বেড়েছে পাঁচগুণ। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে চলতি বছরে বাজার থেকে রান্নাঘর, সোশ্যাল মিডিয়া সবই বেশ সরব ছিল। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার টকশোতেও উঠে এসেছে পেঁয়াজের আলোচনা।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে পেঁয়াজের দাম ক্রেতার নাগালের মধ্যে থাকলেও ফেব্রুয়ারি থেকে দাম বাড়তে শুরু করে রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় এ পণ্যের। জানুয়ারিতে পেঁয়াজের দাম ছিল প্রতিকেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে। ফেব্রুয়ারি থেকে দাম বাড়তে থাকে। ওই মাসেই এর দাম বেড়ে দাঁড়ায় প্রতিকেজি ৩৩ থেকে ৩৮ টাকা। এই দাম মার্চ, এপ্রিল ও মে পর্যন্ত স্থির ছিল। জুন থেকে আবার দাম বাড়তে থাকে। এই সময় দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ৪৫ টাকায় পৌঁছে। জুলাইয়ে পেঁয়াজের দাম আরও এক দফা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। আগস্টের শুরুতে দাম কমলেও শেষের দিকে আবার বেড়ে যায়। এ সময় বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৪৫ থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে। সেপ্টেম্বরে পেঁয়াজের দাম আরও বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। তবে অক্টোবরে পেঁয়াজের মূল্য বেড়ে প্রতিকেজি ৮০ টাকা থেকে ছাড়িয়ে ৯০ টাকার ঘর স্পর্শ করে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে এর দাম আরও বেড়ে ভালো মানের পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ১২০ টাকা কেজিতে পৌঁছায়।

পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় হাওরে বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পেঁয়াজ রোপণের মৌসুমে টানা বৃষ্টি, ভারতে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে মিয়ানমার থেকে আমদানি কমে যাওয়া ও সার্বিকভাবে আমদানি কম হওয়াকে দায়ী করেছেন। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শিগগিরই পেঁয়াজের দাম কমবে এবং পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে। এদিকে ডিসেম্বরের শেষ দিকে এসে বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে বাজারে পেঁয়াজের দামও কমতে শুরু করেছে। এখন দেশি নতুন পেঁয়াজ ৯০ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত অক্টোবরে পেঁয়াজের বীজ বপনের সময় সারা দেশে প্রবল বৃষ্টি হওয়ায় এর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যে কারণে এবার দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাড়ে ১৯ লাখ টন। এর মধ্যে উৎপাদন হয়েছিল প্রায় সাড়ে ২১ লাখ টন। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় দুই লাখ টন বেশি। এর আগের বছর পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছিল ১৯ লাখ ২০ হাজার টন। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পেঁয়াজ উৎপাদন আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে পেঁয়াজের আমদানিও বেড়েছে। বাজারেও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তার পরও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে