মাদার অব হিউম্যানিটি শেখ হাসিনা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার আরও একটি ঘটনাবহুল বছর পার করেছে ২০১৭ সালে। এ বছর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দৃশ্যমান কোনো চাপ মোকাবিলা করা না লাগলেও বেশকিছু ঘটনায় বেগ পোহাতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তবে নিজের রাজনৈতিক দক্ষতায় সবকিছু মোকাবিলা করে বিশ্বসভায় ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ খেতাব পেয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

২০১৭-তে শেখ হাসিনার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা। পাশাপাশি সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলসংক্রান্ত সর্বোচ্চ আদালতের রায় নিয়ে সৃষ্ট সংকটও দক্ষহাতে মোকাবিলা করতে হয়েছে।

এ বছরই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত বড় দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে দৃশ্যমান সাফল্য লক্ষ করা যায়। পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান তোলার মধ্য দিয়ে নির্মাণ দৃশ্যমান হয় ১ অক্টোবর। আর ১ ডিসেম্বর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মূল পর্বের কাজ শুরু করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৭ সালের শেষার্ধে নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য সরকার যে উদারতা দেখিয়েছে তা বিরল। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘে শেখ হাসিনার সাহসী বক্তব্যের প্রশংসাও করেছেন বিশ্বনেতারা। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও মিয়ানমারের মতো শক্তির বিপক্ষে দাঁড়িয়ে প্রায় ৬ লাখ নতুন রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য আশ্রয়, বাসস্থান ও খাবারের ব্যবস্থা করে বিশ্বগণমাধ্যমের শিরোনামে জায়গা করে নেন শেখ হাসিনা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ফোর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ (মানবতার জননী) বলে আখ্যায়িত করে।

মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর আশ্রয়, খাদ্যের ব্যবস্থা এবং স্বদেশে ফেরত পাঠানোর তৎপরতা শুরু ছিল ২০১৭ সালে সরকারের সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম বড় অর্জন ছিল ভারত সফর। গত ৭ থেকে ১০ এপ্রিল তিনি ভারত সফর করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়সহ সে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে অভূতপূর্ব সম্মান জানানো হয়। শেখ হাসিনার এই সফর প্রতিবেশী দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও নতুন মাত্রায় নিয়ে যায়। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে দুই দেশের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চুক্তি এবং সমঝোতা স্বাক্ষর হলেও বহুল আলোচিত ও বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশিত তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি ঝুলে থাকে। বিশ্বের সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারক-বাহক দুই বৃহৎ সংগঠন ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) এবং কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায়। এর আগে এত বড় কোনো আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান বাংলাদেশে হয়নি। এটা বাংলাদেশের জন্য ছিল অনেক বড় ঘটনা।

সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা ২০১৭ সালে সফলতা দেখাতে পারলেও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ভোটের মাঠে শেখ হাসিনা ততটা সফলতা পাননি। ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজিত হয় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী। কুমিল্লা ও রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

২০১৭ সালেই অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক চেতনায় বিশ্বাসী আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতাপ্রীতির অভিযোগ ওঠে। কওমি মাদ্রাসা উচ্চশিক্ষার স্বীকৃতি প্রদান নিয়ে এই অভিযোগ ওঠে। গত ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সম্মান প্রদানের ঘোষণা দেন।

২০১৭ সালে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বাংলাদেশ সফরে আসেন। এদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সফর ছিল ইসলাম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের শীর্ষ ব্যক্তিদের ঢাকা সফর। গত ৬ এপ্রিল ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ওলামা সম্মেলনে মুসলমানদের পবিত্র নগরী মক্কার মসজিদুল হারামের সিনিয়র ইমাম শায়খ মুহাম্মদ বিন নাসির আল খুজাইম এবং মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ড. আবদুল মহসিন বিন কাসেমসহ ৪ সম্মানিত ইমাম অংশগ্রহণ করেন। একই বছরের শেষে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তায় তিন দশক পর ঢাকা সফরে আসেন ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। দুটো সফরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বড় কূটনৈতিক সফলতা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যান্য বছর বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক শিবির থেকে নানা ধরনের রাজনৈতিক চাপ নিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। কিন্তু ২০১৭ সালে বিএনপির পক্ষ থেকেও তেমন একটা রাজনৈতিক আঁচ ছিল না। সবমিলিয়ে ২০১৭ সালের পুরোটা রাজনৈতিক চাপমুক্ত অনেকটা নির্ভার সময় কেটেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে