বিশ্ব নেতাদের প্রেমের গল্প

  শামীম ফরহাদ

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৯:১৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডোনাল্ড ও মেলানিয়া ট্রাম্প : মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী এবং তাদের বিয়ে নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মেলানিয়া ট্রাম্প ইয়োগোসøাভিয়ায় (বর্তমানের স্বাধীন দেশ সেøাভেনিয়া) জন্মগ্রহণ করেন। ২০০১ সাল থেকে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হন এবং ২০০৬ সালে নাগরিকত্ব পান। একসঙ্গে পাঁচটি ভাষায় কথা বলতে পারেন মেলানিয়া। সেøাভেনিয়ান, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, সার্বিয়ান ও জার্মান। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার সাবেক মডেল মেলানিয়া ‘হার্পারস বাজার,’ ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-এর মতো পত্রিকার কভারে দেখা দিয়েছেন। তিনিই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্ত্রী, যার খোলামেলা ছবি প্রকাশিত হয় সাময়িকীতে। ২০০০ সালে ব্রিটিশ ম্যাগাজিন ‘জিকিউ’-এর জন্যও শুট করে বিতর্কে জড়িয়েছেন। ১৯৯৬-এ নিউইয়র্ক আসার পর ১৯৮৮ সালের অক্টোবরে নিউইয়র্কের একটি ফ্যাশন সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মেলানিয়ার দেখা হয়, যখন তিনি বিবাহিতই ছিলেন কিন্তু মার্লা ম্যাপলস থেকে পৃথক ছিলেন। তাদের সম্পর্ক সবার নজর কাড়ে ১৯৯৯-এ ‘দ্য হোয়ার্ড স্টার্ন’ শো নামক একটি টকশো অনুষ্ঠানে উপস্থিতির মাধ্যমে। ২০০০ সালে মেলানিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আবির্ভূত হন যখন, সে বছর ডোনাল্ড রিফম পার্টি থেকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ান। তাদের সম্পর্ক জনসমক্ষে প্রকাশ পায় ২০০৪ সালে ডোনাল্ডের ব্যবসায়িক রিয়েলিটি টেলিভিশন শো ‘দ্য এপারেন্টিস’ চালুর পর। ২০০৪ সালে বাগদানের পর, ২২ জানুয়ারি ২০০৫ সালে মেলানিয়া ও ডোনাল্ড ফ্লোরিডার পাম সৈকতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের বিয়েতে তখনকার সিনেটর হিলারি ক্লিনটন এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটন উপস্থিত ছিলেন। মেলানিয়ার আগে ট্রাম্প দুটি বিয়ে করেন। ২০০৬ সালে মেলানিয়া একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন, যার নাম ব্যারন ট্রাম্প।

জাস্টিন ট্রুডো ও সোফি গ্রেগর : আকর্ষণীয়, সুদর্শন ও সুঠাম দেহের অধিকারী কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে কেউ কেউ মজা করে বলছেন সেক্সিয়েস্ট প্রাইম মিনিস্টার অন আর্থ। যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান হিসেবে হয়েছেন বাবার মতোই দেশটির প্রধানমন্ত্রী। জাস্টিন ট্রুডো যে শুধু রাজনীতিতেই সফল তা কিন্তু নয়। প্রেমিক পুরুষ হিসেবেও একজন সফল ব্যক্তি। প্রেম করেই বিয়ে করেছেন। তার স্ত্রীর নাম সোফি গ্রেগর। সোফিকে জাস্টিন চিনতেন সেই শৈশব থেকেই। কারণ তিনি ছিলেন জাস্টিনের ছোট ভাই মাইকেলের সহপাঠিনী ও বান্ধবী। তবে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে আরও অনেক পর। সেটি ছিল ২০০৩ সালের ঘটনা, যখন দুজনে একটি চ্যারিটি প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হন। তখন থেকেই একজন আরেকজনের প্রতি কৌতূহলী হয়ে ওঠেন এবং কিছুদিনের মধ্যেই তা গভীর পরিণয়ে পরিণত হয়। ২০০৪ সালের অক্টোবরে এনগেজমেন্ট এবং ২০০৫ সালের মে মাসে বিয়ে। বর্তমানে তারা তিন সন্তানের বাবা-মা।

কিম জং-উন ও রি সোল-জু : উত্তর কোরিয়াকে দুনিয়ার সবচেয়ে গোপন রাষ্ট্র বলে গণ্য করা হয়। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের ব্যক্তি এবং পারিবারিক জীবন, বিশেষ করে তার স্ত্রী সম্পর্কে সারা বিশ্বে যত না আগ্রহ, তার চেয়ে অনেক কম খবরাখবর পাওয়া যায় ২০১২ সালে উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রথমবারের মতো কিম জং-ইলের বৈবাহিক সম্পর্ক প্রকাশ করে। এতে বলা হয় যে, কিমের সঙ্গিনী হলেন তার পতœী ও কমরেড রি বা লি সোল-জু। কিছু সূত্র বলে তারা ২০০৯ সালে বিয়ে করেন। রি সোল-জু গায়িকা ছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার খবর অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-ইল তার স্ট্রোক হওয়ার পর ২০০৮ সালে কিম জং-উন আর রি সোল-জুর বিয়ের ব্যবস্থা করেন। ২০১৬ সালে প্রায় আট মাস ধরে রি সোল-জুকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। কিম নিজের একাধিক নিকটাত্মীয়কে মৃত্যুমুখে পাঠিয়েছেন; কাজেই এ সময় গুজব শুরু হয় যে, কিম হয়তো তার নিজের পতœীকেও ‘সরিয়ে দিয়েছেন’। তবে এই গগুজব বেশিদিন ধাপে টিকেনি। কিছুদিনের মধ্যেই এই রহস্যঘেরা দম্পতিতে জনসমক্ষে দেখা যায়। এর আগে ২০১২ সালেও রি সোল-জু হঠাৎ গায়েব হয়ে গিয়েছিলেন। পরে মার্কিন বাস্কেটবল তারকা ডেনিস রডম্যান জানান যে, রি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। রডম্যান ২০১৩ সালে উত্তর কোরিয়ায় গিয়ে কিমের সঙ্গে পরিচিত হন।

এমানুয়েল ম্যাক্রন ও ব্রিজিথ তোনিয়ো : ফ্রান্সের বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রন ও তার স্ত্রী ব্রিজিথ তোনিয়োর বয়সের ব্যবধান ২৫ বছর। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ম্যাক্রনের এই অসম প্রেমকাহিনি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। ম্যাক্রন যখন ১৬ বছরের কিশোর, তখনই তিনি প্রেমে পড়েছিলেন তোনিয়োর। তখন তার বয়স ছিল ৪০ বছর। শুধু তাই নয়, তিনি ছিলেন তিন সন্তানের জননী। ম্যাক্রনের পরিবার তাদের এই অসম প্রেম মানতে নারাজ ছিল। তারা ম্যাক্রন-তোনিয়োর প্রেম থামাতে চেয়েছিল। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। কারণ ম্যাক্রন বরাবরই উল্টো পথে হাঁটতে পছন্দ করেন। ম্যাক্রনের স্ত্রী একসময় তার স্কুলের নাটকের শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই তোনিয়োকে চিনতেন। ম্যাক্রন ওই স্কুল ছাড়ার পর তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হতে থাকে। ওই সময়টায় তাদের দুজনের মধ্যে টেলিফোনে দীর্ঘ আলাপ হতো। একপর্যায়ে তাদের প্রেমের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। যদিও ওই সময় তোনিয়ো ছিলেন বিবাহিতা এবং তিন সন্তানের জননী। পরে ২০০৭ সালে তোনিয়ো স্বামীকে ছেড়ে বিয়ে করেন ম্যাক্রনকে। তাদের দুজনের বয়সের ব্যবধানের সমালোচনার জবাবে ম্যাক্রন বলেছিলেন, ‘বয়সের ব্যবধানটা যদি উল্টো হতো অর্থাৎ আমি যদি আমার স্ত্রীর চেয়ে ২৪ বছরের বড় হতাম, তাহলে বিষয়টিকে কেউ অস্বাভাবিক বলত না। মানুষ ভিন্ন কিছু দেখে অভ্যস্ত নয়।’

তেরেসা মে ও ফিলিপ জন মে : ১৯৭৬ সালে অক্সফোর্ডের ছাত্রী ছিলেন বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে ও পাকিস্তানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো। দুজনের মধ্যে সে সময় গড়ে উঠেছিল চমৎকার সম্পর্ক। সেই সুবাদে বেনজির ভুট্টো তেরেসার ‘প্রেমের দূত’ বা ‘ঘটকের’ ভূমিকাও পালন করেছিলেন। সে সময় অক্সফোর্ডের ছাত্রনেতা ছিলেন ফিলিপ জন মে (বর্তমানে ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনালে কর্মরত বিনিয়োগকারী ব্যাংকার)। তিনি ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ও কনজারভেটিভ পার্টির উদীয়মান নেতা। তাকেই পছন্দ করেছিলেন তেরেসা। মনের কথা বান্ধবী বেনজিরকে খুলে বলেন তেরেসা। বেনজির সোজা গিয়ে ফিলিপের কাছে তেরেসার প্রসঙ্গ তোলেন। প্রস্তাব পেয়ে দ্বিতীয়বার ভাবেননি তেরেসার থেকে দুই বছরের ছোট ফিলিপ। ১৯৮০ সালে বিয়ে করেন তারা। সেই শুরু থেকে দীর্ঘ সময় পার করে দুজনই এখনো সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন। এ দম্পতি নিঃসন্তান। স্বাস্থ্যজনিত কারণে তেরেসা মে সন্তান ধারণে অক্ষমতার কথা জানিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, পরিবারে আপনাকে সার্বক্ষণিক সময় দিতে হবে এবং সেখানে দেখবেন যে অনেক কিছুই রয়েছে, যা আপনার নেই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে