হ্যারি কেনে আলোকিত ইংল্যান্ড

  মামুন হোসেন

৩০ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খুব বেশিদিন হয়নি জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন হ্যারি কেন। এরই মধ্যে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ইংলিশ এ স্ট্রাইকার। ২০১৫ সালে লিথুনিয়ার বিপক্ষে ইউরো ২০১৬ চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাইপর্বে অভিষেক হ্যারির। রয় হজসন তখন ইংল্যান্ডের কোচ। বয়সভিত্তিক দলে হ্যারির পারফরম্যান্স দেখে তাকে জাতীয় দলে নিয়ে আসেন হজসন। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে সে সময়ের তারকা ওয়েইন রুনির বদলি হিসেবে মাঠে নামেন হ্যারি। নেমেই ৮০ সেকেন্ডের মধ্যে গোল করে নিজের আগমনী বার্তার জানান দেন। রহিম স্টার্লিংয়ের ক্রস থেকে লিথুনিয়ার বিপক্ষে হেডে গোলটি করেন হ্যারি। এর পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তিন বছরের ছোট্ট ক্যারিয়ারে এখন জাতীয় দলের দায়িত্ব ২৪ বছর বয়সীর কাঁধে। দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে।

২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স ভালো ছিল না ইংল্যান্ডের। গ্রুপপর্বেই সেবার বাড়ি ফিরতে হয় এবং কোনো ম্যাচ না জিতেই। সেই তুলনায় রাশিয়া বিশ্বকাপে দারুণ শুরু করেছে ইংলিশরা। ‘জি’ গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে

টিকিট কেটেছে শেষ ষোলোয়। ইংল্যান্ডের নজর কাড়া পারফরম্যান্সে মূল হোতাই হ্যারি কেন। বলতে গেলে হ্যারি কেনেই আলোকিত ইংলিশরা। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হয় তাদের। প্রথম ম্যাচেই হ্যারি কেন করেন জোড়া গোল। সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানের জয়ে শুভসূচনা হয় ইংল্যান্ডের। পরের ম্যাচে অভিষিক্ত পানামাকে উড়িয়ে দেয় ৬-১ গোলে। যেখানে হ্যাটট্রিক করেন ইংলিশ মিডিয়ার বদৌলতে রাজপুত্রের উপাধি পাওয়া হ্যারি। গ্রুপপর্বে তৃতীয় ম্যাচে অবশ্য বিশ্রামে ছিলেন। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ১-০ গোলে পরাজিত হয় ইংল্যান্ড।

দুই ম্যাচে ৫ গোল করে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারিই। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪ গোল পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং বেলজিয়াম তারকা রোমেলু লুকাকুর। হ্যারি শুধু সর্বোচ্চ গোল করেই অন্যদের পেছনে ফেলেননি, নিজ দেশের পক্ষে দারুণ এক রেকর্ডও গড়েছেন। এক বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ গোল ছিল সাবেক তারকা গ্যারি লিনেকারের (১৯৯০ সালে)। লিনেকারকে পেছনে ফেলে এখন হ্যারিই সবার ওপরে। বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ৮ গোলের মালিক ব্রাজিলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় রোনাল্ডো (২০০২ বিশ্বকাপে)। হ্যারির সামনে এখন রোনাল্ডোর রেকর্ড ভাঙার দারুণ সুযোগ!

প্যাট্রিক কেন এবং কিম কেনের দ্বিতীয় সন্তান হ্যারি কেন। লন্ডনের উত্তর-পূর্বাঞ্চল শহর ওয়াটথামস্টোতে ১৯৯৩ সালের ২৮ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন তিনি। হ্যারির পূর্বপুরুষ আইরিশ বংশোদ্ভূত। আয়ারল্যান্ডের গ্যালওয়ে থেকে সপরিবারে ইংল্যান্ডের ওয়াটথামে বসত গাড়েন হ্যারিরা। চার্লি নামে হ্যারির এক বড় ভাইও আছে। টটেনহ্যাম হটস্পারের দারুণ ভক্ত হ্যারি পরিবার। মূলত এ ক্লাবের হয়েই উত্থান হ্যারির। জুনিয়র লেভেল থেকে স্পারদের হয়ে খেলা শুরু। সিনিয়র লেভেলেও এ ক্লাবের হয়ে এই তো গত মৌসুমও খেলেছেন। মাঝে ধারে লেইটন অরিয়েন্ট, মিলওয়াল, নর্থউইচসিটি এবং লেস্টারসিটির হয়ে খেলেছেন।

ইংল্যান্ডের সাবেক খেলোয়াড় টেডি শেরিংহ্যামের দারুণ ভক্ত হ্যারি কেন। ছোটবেলা থেকেই টেডির প্রতি অনুরক্ত। হ্যারির মতে, টেডির মতো ফিনিশার তার চোখে পড়েনি। টেডিকেই আদর্শ মেনে এগিয়ে যেতে চান হ্যারি। ইংল্যান্ডের জন্য বয়ে আনতে চান অনেক সাফল্য।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে