sara

মিলবে যত সুযোগ-সুবিধা

  আবু আলী

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০১:০৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০-এর ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রতিষ্ঠা করে সরকার। আগামী ১৫ বছরের মধ্যে সারা দেশে অন্তত ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হয়। ইতোমধ্যে ৮২টির বেশি ইকোনমিক জোনের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী কয়েক বছরে এসব অঞ্চলের কারখানা থেকে উৎপাদিত কমপক্ষে ৪০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বেজা মনে করে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো দেশের জিডিপিতে অন্তত ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাড়াবে। প্রতি বছর দেশের ২৫ থেকে ২৭ লাখ মানুষ কর্মবাজারে ঢুকছে। তাদের সবাইকে কর্মসংস্থানের কথা ভাবছে। ফলে এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের মাধ্যমে দেশের বেকার সমস্যার সমাধানও হবে খুব সহজেই, যা দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ইকোনমিক জোনগুলোয় অনেক বেশি প্রণোদনা বা ইনসেনটিভ দেওয়া হবে। ইপিজেডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ৯০ ভাগ বিদেশে রপ্তানি করতে হয়, ১০ ভাগ দেশে বিক্রির অনুমতি আছে। কিন্তু এখানে ১০০ ভাগই দেশের মধ্যে বিক্রি করা যাবে। এখানে দুইটি এরিয়া রয়েছে। একটি ডমেস্টিক প্রসেসিং এরিয়া, অন্যটি এক্সপোর্ট প্রসেসিং এরিয়া। এক্সপোর্ট প্রসেসিং এরিয়ায় যারা বিনিয়োগ করবে, তারা শতকরা ৮০ ভাগ রপ্তানি এবং ২০ ভাগ দেশে বিক্রি করতে পারবে। ডমেস্টিক প্রসেসিং এরিয়ায় স্থাপিত শিল্প তাদের পণ্যের ১০০ ভাগই দেশে বিক্রয় করতে পারবে। আবার সে চাইলে বিদেশেও রপ্তানি করতে পারবে। এই সুবিধা অন্য কোনো ইপিজেডে কল্পনাও করা যায় না।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বিনিয়োগের জন্য উদ্যোক্তারা যেসব সুযোগ-সুবিধা চান, তা অর্থনৈতিক অঞ্চলে রয়েছে। এখানে বিনিয়োগে শুল্কমুক্ত সুবিধা, নীতি সহায়তা, ইউটিলিটি এবং সার্বিক অবকাঠামো সুবিধা রয়েছে। আবার বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান স্টপ সেবা চালুও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য অনেক সুবিধা রয়েছে অঞ্চলগুলোয়। গ্যাস-বিদ্যুৎ নিজ উদ্যোগে সরবরাহ করবে। শিল্পের জন্য যত সেবা প্রয়োজন তা দিতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার (ওএসএস) করা হয়েছে। এখন ৯টি সেবা দেওয়া হচ্ছে। এখানে ৫২টি সেবা দেওয়া হবে। এটি নিশ্চিত করতে ওএসএস আইন পাস করা হয়েছে। আইন বাস্তবায়নে বিধিমালা আগামী নভেম্বরের মধ্যে করা হবে।

সূত্র জানিয়েছে, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় দুই ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছেÑ একটা হচ্ছে জোনের অবকাঠামো উন্নয়নে ডেভেলপারদের জন্য এবং অপর

প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে শিল্প ইউনিটে বিনিয়োগকারীদের জন্য। তা ছাড়া রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিএ) স্থাপিত শিল্পে উৎপাদিত পণ্যের ২০ শতাংশ দেশের বাজারে ছাড়ারও সুযোগ থাকছে, যা ইপিজেডে রয়েছে ১০ শতাংশ। এ ছাড়া কর অবকাশ, শুল্কমুক্ত সুবিধায় নির্মাণসামগ্রী ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি, অবাধ এফডিআইসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকছে এখানে। এ ছাড়া ডেভেলপারদের জন্যও রয়েছে এ রকম অনেক প্রণোদনা প্যাকেজ, যেগুলো দেশের অন্যত্র পাওয়া যাবে না।

জোনের অবকাঠামো উন্নয়নে ডেভেলপারদের জন্য প্রণোদনা : ১২ বছরের জন্য আয়করমুক্ত সুবিধা, বিদ্যুতের ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) অব্যাহতি, এসইজেড প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় বাজার থেকে কেনা উপকরণ মূসক অব্যাহতি, আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক ছাড়, ভূমি রেজিস্ট্রেশনে স্ট্যাম্প ডিউটি ফ্রি, কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) নির্মাণে ভর্তুকি ছাড়াও নানা সুবিধা থাকছে।

শিল্প ইউনিটে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণোদনা : বেসরকারি খাতে যেসব প্রতিষ্ঠান এসইজেড প্রতিষ্ঠা করবে, তাদের বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এসইজেড থেকে পাওয়া আয় ১০ বছর করমুক্ত, বিদ্যুতের ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) অব্যাহতি, এসইজেড প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় বাজার থেকে কেনা উপকরণ মূসক অব্যাহতি, আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক ছাড়, কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) নির্মাণে ভর্তুকি ছাড়াও নানা সুবিধা পাবে এসইজেড প্রতিষ্ঠাকারী কোম্পানি।

অন্যদিকে এসইজেডে যারা বিনিয়োগ করবেন, তাদের ১০ বছর বিভিন্ন হারে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উপকরণ ও যন্ত্রপাতি কেনায় কর ছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে সরকার। এ ছাড়া আরেকটি বিশেষ সুবিধা হলো, এসইজেডে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চলকে বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়েছে। লভ্যাংশকে কর মুক্ত রাখা হয়েছে। শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা, গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক মুক্ত, দ্বৈত কর মুক্ত, বিদ্যমান আইনে বিদেশি ঋণ সুবিধা, অনাবাসী বাংলাদেশিদের এফসি অ্যাকাউন্ট, দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগের এফসি অ্যাকাউন্ট, ৭৫ হাজার ইউএস ডলার বিনিয়োগে মিলবে আবাসিক ভিসা আর ১০ লাখ ডলার বা তার চেয়ে বেশি বিনিয়োগে মিলবে নাগরিকত্ব।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে