মাঠে সরব আ.লীগ কৌশলে বিএনপি

  উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:৪৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনটি ধরে রাখতে চাইছে আওয়ামী লীগ; আর বিএনপির টার্গেট আসনটি পুনরুদ্ধার। তবে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠে থাকলেও বিএনপির যারা মনোনয়ন চাইবেন, তাদের প্রচার বিশেষ দিনগুলোয় পোস্টার আর বিলবোর্ড টানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এছাড়াও এ আসন থেকে মহাজোটের প্রার্থী হতে পারেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম খান।

উল্লাপাড়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সিরাজগঞ্জ-৪ আসন। হালনাগাদ এ আসনে ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার। বিগত দশটি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী চারবার, বিএনপি দুইবার, জাসদ দুইবার এবং জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী একবার করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। উল্লাপাড়ায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের সাংগঠনিক ভীত মজবুত। আওয়ামী লীগ পর পর দুই দফা ক্ষমতায় থাকায় বিএনপি-জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি অনেকটাই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত মিলে আট-নয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের চার প্রার্থী নির্বাচনী ময়দানে থাকলেও বিএনপির চার এবং জামায়াতের একজন প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি মাঠে নেই। তবে জামায়াতের প্রার্থী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম খান মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের ছেলে বর্তমান সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম, সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মো. শফিকুল ইসলাম শফি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জাহেদুল হক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিনা মির্জা মুক্তি। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য এম আকবর আলী, কেন্দ্রীয় তাঁতী দলের সদস্য কাজী কামাল, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা কেএম শরফুদ্দিন মনজু ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম।

সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগ জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও বিএনপি ও জাময়াতের পৃথকভাবে নির্বাচন করার সম্ভবনা রয়েছে। জামায়াত ও বিএনপি পৃথকভাবে নির্বাচন করলে জোটবদ্ধ আওয়ামী লীগ প্রার্থী সহজেই নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবে। তবে এ আসনে জামায়াত-বিএনপি জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলে দুই জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী বর্তমান সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে তার নির্বাচনী এলাকার ভোট কেন্দ্রগুলোয় কেন্দ্র কমিটি গঠন, নির্বাচনী জনসভা, গণসংযোগ, উঠান বৈঠকসহ উন্নয়নসংবলিত নির্বাচনী লিফলেট বিতরণ করেছেন। তিনি বলেন, আমি এ আসনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হব বলে আশাবাদী। তিনি দাবি করেন, দলের মধ্যে কোনো গ্রুপিং নেই। এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী একাধিক প্রার্থী থাকলেও দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমরা দলের হয়ে তার পক্ষে কাজ করব। অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী শফিকুল ইসলাম শফি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহেদুল হক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিনা মির্জা মুক্তি দলীয় সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় জনসভা, গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করে চলেছেন। তবে বিএনপির কোনো প্রার্থী এখনো নির্বাচনী মাঠে নামেননি।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে নীরবে নির্বাচনী লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ করছেন তার সমর্থকরা। রফিকুল ইসলাম খান নিজেও ফোনের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি দাবি করেন,

২০-দলীয় জোটের তিনিই হবেন একক প্রার্থী। বলেন, আর সে ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমিই জয়লাভ করব ইনশাআল্লাহ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে