জোটে ‘কপাল পুড়তে’ পারে আ.লীগ-বিএনপি নেতাদের

  এখলাছুর রহমান, জকিগঞ্জ

১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:১১ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের সীমান্তঘেঁষা সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) সংসদীয় আসন। এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) হেভিওয়েট নেতারা সব ধরনের তৎপরতাই চালাচ্ছে। তবে মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্টের কারণে দল দুটির মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা ‘কপাল পোড়ার’ আশঙ্কায় রয়েছেন।

এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের মনোনয়নে এ আসনে কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে শরিক দলকেই আসনটি ছাড় দিতে হতে পারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির, এটা অনেকটাই ঠিক হয়ে আছে বলে একটি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গত সংসদ নির্বাচনেও আসনটি মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এবার আওয়ামী লীগ আসনটি ধরে রাখার চেষ্টা করলেও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আসনটি চেয়ে বসায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও পড়েছেন বিপাকে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত মহাজোটের সিদ্ধান্তে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের যে কেউ মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে থাকবেন। এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন সাবেক এমপি হাফিজ আহমদ মজমুদার, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আহমদ আল কবির, সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহমদ, রমনা থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল মুনির চৌধুরী, সিলেট মহানগর কৃষক লীগের সভাপতি আব্দুল মুমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা ফয়ছল আহমদ রাজ। জাতীয় পার্টি থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও জাপা চেয়ারম্যানের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা সেলিম উদ্দিন এমপি, পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক শাব্বির আহমদ, কেন্দ্রীয় সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শিল্পপতি এম জাকির হোসেইন, কেন্দ্রীয় নেতা এমএ মতিন চৌধুরী।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, এবার আসনটি আওয়ামী লীগ দখলে রাখতে চায়। অন্যদিকে জাপার একটি সূত্র জানায়, দলীয় তিন নেতার যে কোনো একজনকে দেওয়া হতে পারে মহাজোটের টিকিট।

২০০১ সালের নির্বাচনের আগে চারদলীয় ঐক্যজোট গঠনের পর থেকে আসনটি জোটের শরিক দল জামায়াতের দখলে ছিল। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতের অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী প্রার্থী ছিলেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত অংশ নেয়নি। এবার ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে বিএনপিসহ ২০-দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ফলে আসনটি এবারও শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দেওয়া হতে পারে জামায়াতকে। তবে স্থানীয় বিএনপি কোনোভাবেই জামায়াতকে ছাড় দিতে চাচ্ছে না।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি ইকবাল আহমদ তাপাদার, কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ চাকসু মামুন, জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রবাসী শরিফ লস্কর, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান পাপলু, আরব আমিরাত বিএনপির সভাপতি জাকির হোসাইন, যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে অতীতে বিএনপি ছাড় দিলেও এমপি হয়ে তিনি বিএনপিকে এড়িয়ে চলেছেন। এতে দুই উপজেলা বিএনপির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিএনপির একাধিক নেতা মনে করেন, জামায়াত নেতাকে ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপি জোটের প্রার্থী করা হলে ইসলামপন্থি অন্য দলগুলোর সমর্থক ও সাধারণ মানুষকে পক্ষে আনা কঠিন হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে