হলফনামা থেকে

কয়েক গুণ বেড়েছে রাজশাহীর ৩ এমপির আয়

  নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:০৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

কার সম্পদ বেড়েছে, কার কমেছে। ক্ষমতায় গিয়ে কে অঢেল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন নির্বাচনী হাওয়ায় এখন এসব কথাই ভেসে বেড়াচ্ছে। পাড়া-মহল্লার চায়ের স্টলগুলোর সন্ধ্যাকালীন শীতের আড্ডায় প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে চলছে যুক্তি খ-নও। থেমে নেই রাজশাহীর সাধারণ ভোটাররাও।

এ জেলার ছয়টি আসনে এবার মোট ৫৩ মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। পাঁচজন আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য। এর মধ্যে চারজন টানা দুবার নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত এবারের হলফনামা বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ক্ষমতার এক দশকে তিনজনের আয় ও সম্পদ বেড়েছে কয়েক গুণ। তবে একজনের গতবারের তুলনায় কমেছে।

রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) : এ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরীর আয় এবং সম্পদ বেড়েছে সাড়ে ছয় গুণ। তার বর্তমান বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৫৩ লাখ ৩০ হাজার ২০১ টাকা, গতবার নির্বাচনের আগে ছিল ৮ লাখ ১৮ হাজার ৩৭২ টাকা। তবে বার্ষিক ব্যয়ও বেড়েছে তার, ১৫ লাখ ২৪ হাজার ৯৫২ টাকা।

রাজশাহী-২ (সদর) : ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা ১৪-দলীয় জোট থেকে এ আসনের সংসদ সদস্য। এবারও তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন। দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, তার সম্পদ ও আয় দুটোই বেড়েছে। বাদশা এবার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৩৯ লাখ। এর মধ্যে সংসদ সদস্য হিসেবে পারিতোষিক ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা, সোনালী সংবাদ থেকে পারিতোষিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, মহানগর প্রিন্টিং প্রেস থেকে ৩০ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালে তার আয় দেখানো হয়েছিল ৯ লাখ ২৩ হাজার ৭৭২ টাকা। তারও পাঁচ বছর আগে ২০০৮ সালে ছিল মাত্র ২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) : হলফনামায় দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের আয়ও বেড়েছে। তার বর্তমান বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৩২ লাখ ৮৫ হাজার ৫০৬ টাকা। পাঁচ বছর আগে তার বার্ষিক আয় ছিল মাত্র ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। নিজ নামে নগদ ৩ লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে ১ লাখ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ দেওয়া হয়েছে ৪৩ লাখ ৮২ হাজার ৯২২ টাকা। সঞ্চয়পত্র রয়েছে ১৫ লাখ টাকার। স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে ঢাকায় ৩ কাঠা জমি ও স্ত্রীর নামে ফ্ল্যাট দেখানো হয়েছে।

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) : সংসদ সদস্য এনামুল হকের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৪৯ লাখ টাকা। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে ছিল ৫০ লাখ টাকা। সে হিসাবে তার আয় কমেছে এক লাখ টাকা। ২০০৮ সালে ছিল ২০ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে নগদ ৩৬ লাখ ৭৬ হাজার ৫৯৮ এবং স্ত্রীর নামে ১ কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ৩৫৯ টাকা রয়েছে। নিজ নামে সাধারণ শেয়ার রয়েছে ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার এবং স্ত্রীর নামে আছে ৭ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার টাকার। নিজ নামে দুটি টয়োটা হার্ড জিপ এবং স্ত্রীর নামে একটি টয়োটা জিপ দেখানো হয়েছে। উপহারের ৪০ তোলা স্বর্ণও রয়েছে এ দম্পতির।

রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) : এ আসনের সংসদ সদস্য বর্তমান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বার্ষিক আয় ২ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৮০৮ টাকা, যা পাঁচ বছর আগের তুলনায় তিন গুণ। গত নির্বাচনে তার আয় দেখানো হয়েছিল ৯০ লাখ ২০ হাজার ৬৪৬ টাকা। আর ২০০৮ সালে ছিল ৯৭ লাখ ৭৩ হাজার ৯৪৯ টাকা। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে নিজ নামে ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৯ হাজার ৭০৬ টাকা, স্ত্রীর নামে ২ কোটি ৬২ লাখ ৯৯ হাজার ১৪৬ টাকা দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া নিজ নামে ১০ লাখ টাকা ও স্ত্রীর নামে ৯০ লাখ ৪৫০ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে