লড়াইয়ে আছেন মাঠে নেই

  হাসান আল জাভেদ

১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:১৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

লড়াইয়ে থাকলেও ভোটের মাঠে নেই দেশের বেশকিছু আলোচিত রাজনীতিক। তাদের কেউ কেউ স্বেচ্ছায় ভোটে প্রার্থী হতে চাননি। আবার অনেকে প্রার্থিতা চাইলেও দল তাকে বিবেচনায় নেয়নি। কেউ-কেউ বাদ পড়েছেন আইনি জটিলতায়। তবে সরাসরি না থাকলেও নেপথ্যে থেকে এসব নেতা দল ও প্রার্থীর জন্য কাজ করছেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে দুই মাস ধরে আলোচনায় রাজনীতিবিদ ও আইনজ্ঞ ড. কামাল হোসেন। তবে বিএনপির সঙ্গে বৃহত্তর জোট গড়ে ‘নিরপেক্ষ নির্বাচনের’ দাবি আদায়ে সরব কামাল হোসেন প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্রই সংগ্রহ করেননি।

অন্যদিকে নির্বাচন থেকে নিজে দূরে থাকলেও ছেলেকে মনোনয়ন পাইয়ে দিয়েছেন সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। প্রার্থিতা চাননি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব) মাহবুবুর রহমান। শেষ বেলায় বিএনপির মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়েছেন রাজনীতিবিদ-কণ্ঠশিল্পী মনির খান।

বিএনপি জোটের এমন অন্তত ৪৫ জন আলোচিত নেতা, সাবেক এমপি-মন্ত্রী, তরুণ ছাত্রনেতা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে রয়েছেন। মামলার জালে বন্দি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের প্রার্থিতা বৈধ হয়নি। নিখোঁজের পর ভারতের শিলংয়ে উদ্ধার হওয়া স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন চাননি।

বাবর ও সালাহউদ্দিনের স্ত্রী বিএনপির টিকিটে নির্বাচন করছেন। প্রার্থিতা চাননি আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক, ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, মোসাদ্দেক আলী ফালু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও কামরুল ইসলাম।

দলীয় টিকিট পাননি ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, রুহুল আলম চৌধুরী ও সেলিমা রহমান, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আনম এহছানুল হক মিলন, অধ্যক্ষ সোহরাব হোসেন, মিরপুরের এসএ খালেক, গোলাম আকবর খন্দকার, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর।

এ ছাড়া সাবেক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতাদের মধ্যে মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন শামসুজ্জামান দুদু, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, কামরুজ্জামান রতন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, মাহবুবুল হক নান্নু, নুরুল ইসলাম নয়ন, আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, তাইফুল ইসলাম টিপু, হাসান মামুন, রাজীব আহসান ও আকরাম হোসেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নও বাতিল করা হয়েছে। অবশ্য মনোনয়ন ফিরে পেতে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেছেন।

বিএনপি ছেড়ে বিকল্পধারায় যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের টিকিট পাননি শমসের মবিন চৌধুরী। আর বিকল্পধারাপ্রধান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবাবের নির্বাচনে প্রার্থী হননি।

আওয়ামী লীগে এই সংখ্যা কম হলেও কয়েকজন আলোচিত ব্যক্তি এবার দলীয় প্রার্থিতা পাননি। তাদের মধ্যে দলের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ভোলা-২ আসন থেকে মনোনয়ন চেয়ে পাননি। বাদ পড়েছেন যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, আবদুর রহমান, যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, আব্দুর রহমান বদি, আমানুর রহমান খান রানা।

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির সদস্য বিদায়ী মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারও নির্বাচন কমিশনের আপিলে হেরে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। তবে তার স্ত্রী নাসরিন জাহান রত্না বরিশাল-৬ আসনে অংশগ্রহণ করছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জাতীয় পার্টির আলোচিত নেতা জিয়াউদ্দিন বাবলুও এবার মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েছেন। মনোনয়ন পাননি গত নির্বাচনের সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এবং সাংসদ অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। তিনি অবশ্য ঢাকা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে