ঘর গোছাতে ও নির্বাচনে ব্যস্ত ছিল আ.লীগ

  আলী আসিফ শাওন

৩১ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০ | আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৬:৩৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৬ সালে আওয়ামী লীগ ব্যস্ত সময় পার করেছে দল গোছাতে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে। রাজপথের রাজনীতিতে বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী পক্ষের আন্দোলন-সংগ্রাম না থাকায় বছরজুড়ে বেশ নির্ভার সময় কাটিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। জাতীয় ও দলীয় দিবসভিত্তিক আলোচনা সভা, সমাবেশ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো কর্মকা- ছিল না বছরজুড়ে। শেষের দিকে দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে চাঙ্গা হয়ে ওঠে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। ২০১৬-এর শুরুর দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় কোন্দল এবং নির্বাচনী সহিংসতার কারণে দলের ভাবমূর্তির যে সংকট দেখা দেয় তা বছরশেষে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বেশ খানিকটা পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় লোকদের কোন্দলে আবার তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তবে সব মিলে দিনশেষে ২০১৬ সালে সাফল্য ও অর্জনের পাল্লাই ভারী ছিল আওয়ামী লীগের।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ধারাবাহিক সরকার গঠন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৫ জানুয়ারির ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনটিকে ‘সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার’ নির্বাচন আখ্যা দিয়ে দিবসটিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে ঘটা করে পালনের মধ্য দিয়ে বছর শুরু হয় ক্ষমতাসীনদের।

বিদায়ী বছরে ছয় ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা, ভোট কারচুপি, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা পালনের কারণে দলটি ব্যাপকভাবে সমালোচনার মুখে পড়ে। সেই ধারা এ বছরের সব কটি নির্বাচনে থাকলেও বছর শেষে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ফলে দলীয় ভাবমূর্তি অনেকটাই উজ্জ্বল হয়েছে।

ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা ৪ হাজার ৫৪৬টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ২ হাজার ৬৭২টিতে জয়লাভ করেন। এই নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া, নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা লঙ্ঘন, নির্বাচনী সহিংসতা, দলীয় কোন্দল নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা থাকলেও দলীয় প্রার্থীর বিজয়কেই অর্জন হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ। বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে দলের ভাবমূর্তিতে বড় একটা টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে ভাবছে আওয়ামী লীগ। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হিসেবে সর্বমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী জয়ের মধ্য দিয়ে দলের জনপ্রিয়তা এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে দলটি আরও একধাপ এগিয়ে গেছে বলে ভাবা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, নাসিকের ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনেও দলীয় সাফল্যে ঢেঁকুর তুলছে আওয়ামী লীগ।

তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করার পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবেও বছরজুড়ে দল গুছিয়েছে আওয়ামী লীগ। ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে ঢেলে সাজানো হয় দলকে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনের কাজ সমাপ্ত করা হয় বিদায়ী বছরে। দুই দিনব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশের দলীয় নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়ে ওঠেন। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন আনা হয় দলের সাধারণ সম্পাদক পদে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলকে আরও গতিশীল করতে শেখ হাসিনার দুই মেয়াদের রানিংমেট জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্থলে নির্বাচিত করা হয় মাঠের রাজনীতির জনপ্রিয় মুখ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে। সম্মেলনের কয়েকদিনের মাথায় ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখন পুরোদমে কাজ করছে। নতুন কমিটির নেতাদের হাত ধরেই নাসিক ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সাফল্য পেয়েছে আওয়ামী লীগ। শুধু তাই নয়, প্রায় এক যুগ পর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি হওয়ায় গতি এসেছে দলটির রাজধানীর রাজনীতিতেও।

তার পরও ক্ষমতাসীন দলটির নেতাকর্মীদের কিছু কিছু বিতর্কিত আচরণে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে আওয়ামী লীগের। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালপল্লীতে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সমালোচিত হয় ক্ষমতাসীনরা। এছাড়া জেলা পর্যায়ে ব্যক্তিস্বার্থের কারণে বেশ কিছু দলীয় কোন্দলের ঘটনাও দেখা গেছে বিদায়ী বছরে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে