ট্রাম্পে হতবাক বিশ্ব

  যুবা রহমান

৩১ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০ | আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৬:০১ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হলেন বছরের প্রান্তে, ৮ নভেম্বর নির্বাচনে। আর তিনি আলোচনা-সমালোচনার তুঙ্গে ছিলেন বছরজুড়েই। রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে মনোনয়নপ্রাপ্তি থেকে শুরু করে নির্বাচনে হিলারি কিনটনের সঙ্গে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রচারণা ছিল এ বছর বিশ্বব্যাপী রাজনীতিপ্রেমীদের মূল উপজীব্য। কে হতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, সে দিকে চোখ ছিল সবার। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলে অধিকাংশ মানুষকে আশাহত হতে হয়েছে। হিলারির পরাজয়ে ও ট্রাম্পের জয়ে হতবাক হয়েছে অনেকে। অনেকে চোখের জল ফেলেছে। ক্ষুব্ধ জনগণ ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভও করেছে। কিন্তু সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যা হওয়ার তাই হয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে তাল মেলাতে শুরু করেছে বিশ্ব।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম সমালোচনার পাত্র হন মুসলমান ও অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে। সাফ জানিয়ে দেন, তিনি নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ অভিবাসী বের করে দেবেন ও মুসলমানদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করবেন। তার এই অবস্থা শুধু বিরোধী শিবিরে নয়, নিজ দল রিপাবলিকান নেতারাও কঠোর ভাষায় তার সমালোচনা করেন। একসময় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, রিপাবলিকানদের মধ্যে ‘ট্রাম্প (১৩ পৃষ্ঠার পর)

ঠেকাও’ জোটও গঠিত হয়। কিন্তু তাতে কাজের কাজ হয়নি। কৌশলী ট্রাম্প ঠিকই নিজের রাস্তা তৈরি করে নেন। জিতে নেন দলীয় মনোনয়ন। এরপর শুরু হয় নির্বাচনের মাঠে বিপুল জনপ্রিয় ও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি কিনটনের সঙ্গে লড়াই। সেই লড়াইয়ে রিপাবলিকান অনেক জ্যৈষ্ঠ নেতা ট্রাম্পের কাছ থেকে সমর্থন তুলে নেন। প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন তারা ট্রাম্পকে ভোট দেবেন না। এমন নিঃসঙ্গ কা-ারির মতো অবস্থাতেও হাল ছাড়েননি তিনি। ছাড়েননি নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিও। একের পর এক বাক্যবাণে জর্জরিত করেন হিলারিকে। একপর্যায়ে ই-মেইল কেলেঙ্কারির ঘটনায় হিলারিকে জেলে ঢোকানোর হুমকি দেন ট্রাম্প। কিন্তু মার্কিন নির্বাচনের প্রচারণা যখন তুঙ্গে, তখনই একে একে ট্রাম্পের থলের বিড়াল বের হয়ে আসে। ২০০৫ সালের একটি গোপন অডিও ফাঁস হয়ে যায়। যেখানে ট্রাম্পকে নারী নিয়ে বলতে শোনা যায় অশালীন মন্তব্য। এতে ট্রাম্পকে আরও বাগে পেয়ে যায় হিলারি শিবির। অন্তত এক ডজন নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ নিয়ে আসেন। নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই জরিপ ফলাফল ছিল হিলারির পক্ষে। এমন শোচনীয় পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের পক্ষে একেবারে তলানিতে এসে ঠেকে। শুধু মার্কিন জনগণ কেন, গোটা বিশ্বই ধরে নিয়েছিল হিলারি-ই হচ্ছেন পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু নির্বাচনের ক’দিন আগে পাশার দান যেন উল্টে গেল। এফবিআইপ্রধান জেমস কোমি হিলারির বিরুদ্ধে আবারও তদন্তের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, তাদের ধারণা নতুন কিছু পাওয়া যেতে পারে, যেগুলো আগে পাওয়া যায়নি। এর পরই হিলারির জনপ্রিয়তা নিচের দিকে নামতে থাকে। বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে এগিয়ে যান ট্রাম্প। তবে নির্বাচনের আগের দিন জেমস কোমি ঘোষণা দেন যে, হিলারি নির্দোষ। কিন্তু তাতে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। মার্কিন জনগণ তাদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই বেছে নিল। ৮ নভেম্বর নির্বাচনে অভাবনীয় জয় ছিনিয়ে নিলেন ট্রাম্প। মার্কিন জনগণ তো বটেই, গোটা বিশ্বই হতবাক হয়ে যায় ট্রাম্পের জয়ে। শুধু জনগণ নয়, ট্রাম্প নিজেও নিজের জয়েই প্রথমেই বিস্মিত হয়েছিলেন। কিছুক্ষণ বাকহারা হয়েছিলেন। বিপুল জোয়ার ছিল হিলারির পক্ষে, কিন্তু ফলাফল গেল ট্রাম্পের ঘরে। নির্বাচনের পর সেই চরম সত্য আরও প্রকট হয়ে ওঠে। হিলারি কিনটন ট্রাম্পের চেয়ে ২৮ লাখ ভোট বেশি পেয়েছেন। কিন্তু মার্কিন নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী ইলেক্টরাল ভোটে জয় পান ট্রাম্প। সর্বশেষ ইলেক্টরাল ভোটে ট্রাম্প আটকে যেতে পারেন বলে গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। কিন্তু ১৯ ডিসেম্বরে সেই পরীক্ষাও সফলভাবেই পাস করেন ট্রাম্প। আগামী ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পরই দেখা যাবে, কা-ারি হিসেবে কেমন ভূমিকা নেন তিনি। যদিও নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পকে ভিন্ন রূপে দেখা গেছে। জয়ী হওয়ার পর পরই নিজের ওয়েবসাইট থেকে মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য মুছে দেওয়া হয়। হোয়াইট হাউসে বারাক ওবামার সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এর পরই ট্রাম্পের মুখে শোনা যায় ওবামার প্রশংসা-বাক্যও। হিলারিকেও আর ঘাঁটাবেন না বলে জানান তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে