নাটক নেই, ছিল আন্দোলন

  অনলাইন ডেস্ক

৩১ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০ | আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৫:৫৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশীয় নাটকের মান কমে যাচ্ছে। বছরজুড়ে এটিই ছিল আলোচনার প্রধান বিষয়। এরপরও নাটক বাঁচাতে ছোট পর্দার শিল্পী ও কলাকুশলীরা ডাক দেন আন্দোলনের। ‘শিল্পে বাঁচি, শিল্প বাঁচাই’ সেøাগানে ৩০ নভেম্বর মুখরিত হয়ে ওঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা। সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলা ওই সমাবেশে হাজির হয় টেলিভিশনের ১৩টি সংগঠনের জোট ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশন (এফটিপিও)।

সমাবেশে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন সৈয়দ হাসান ইমাম, এটিএম শামসুজ্জামান, আবুল হায়াত, মামুনুর রশীদ, গাজী রাকায়েত, সালাহ উদ্দিন লাভলু, এসএ হক অলিক, আজিজুল হাকিম, শহীদুজ্জামান সেলিম, রোজী সেলিম, জাহিদ হাসান, তৌকীর আহমেদ, বিপাশা হায়াত, চঞ্চল চৌধুরী, আনিসুর রহমান মিলন, চিত্রলেখা গুহ, ফজলুর রহমান বাবু, মোশাররফ করিম, অপূর্ব, শামীমা তুষ্টিসহ অনেকে। এ সময় ৫ দফা দাবি পেশ করা হয়। তা হলো দেশের বেসরকারি চ্যানেলে বাংলায় ডাব করা বিদেশি সিরিয়াল বা অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হবে; টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ, ক্রয় ও প্রচারের ক্ষেত্রে কায়েন্ট অথবা এজেন্সির হস্তক্ষেপ ছাড়া চ্যানেলের অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে হবে; টেলিভিশন শিল্পের সবক্ষেত্রে এআইটির নূন্যতম ও যৌক্তিক হার পুনর্নির্ধারণ করতে হবে; দেশের টেলিভিশনশিল্পে বিদেশি শিল্পী ও কলাকুশলীর অবৈধভাবে কাজ করা বন্ধ করতে হবে, বিশেষ প্রয়োজনে কাজ করতে হলে সরকারের অনুমতি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোয় নিবন্ধিত হতে হবে এবং ডাউন লিংক চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করতে হবে। ওই দাবিগুলোর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তেেপ বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় বিজ্ঞাপনচিত্রের প্রচার বন্ধ হয় ২ ডিসেম্বর। পরদিন দুপুরে ঢাকা কাবের স্যামসন সেন্টারে এ সংবাদটি দেয় দেশের টেলিভিশন চ্যানেলের বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের বৃহত্তম ঐক্য প্ল্যাটফর্ম ‘মিডিয়া ইউনিটি’। ছোট পর্দার নানা প্রতিকূলতা, অনিশ্চয়তা ও বিদেশি সংস্কৃতির আগ্রাসন মোকাবিলায় ৪ ডিসেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন আরও সাত দফা দাবি পেশ করে এফটিপিও। তা হলো বিজ্ঞাপন প্রচারে গ্রহণযোগ্য মানদ- অনুসরণ করতে হবে; নাটকের বাজেট যৌক্তিক হারে বৃদ্ধি করতে হবে, কপিরাইট প্রথা বহাল করতে হবে; যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে প্রিভিউ কমিটি থাকতে হবে; বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, নির্ভুল ও যথাযথ টিআরপি ব্যবস্থা চালু করতে হবে; ভারতে বাংলাদেশের চ্যানেল চালু করতে হবে এবং তাদের চ্যানেল ডাউন লিংক ফির সঙ্গে আমাদের চ্যানেল ডাউন লিংকের যে অসম ফি আছে, তা অপসারণ করতে হবে; এফটিপিওকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং কোনো নাটক বা অনুষ্ঠান নির্মাণে অবশ্যই শিল্পী ও কলাকুশলীকে এফটিপিওর তালিকাভুক্ত সদস্য হতে হবে। বিজয় দিবসে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে তিন ঘণ্টা ডাব করা বিদেশি ধারাবাহিক ‘সুলতান সুলেমান’-এর পুরনো পর্বগুলো প্রচার করে দীপ্ত টিভি। এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে চ্যানেলটির সম্প্রচার কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানায় এফটিপিও। পরদিন ডাব করা বিদেশি ধারাবাহিক বন্ধের দাবিতে সেগুনবাগিচায় রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি। সেখানে চারটি টিভি চ্যানেলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯ ডিসেম্বর দীপ্ত টিভি, ২০ ডিসেম্বর একুশে টিভি, ২৮ ডিসেম্বর এসএ টিভি এবং ২৯ ডিসেম্বর মাছরাঙা টিভি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিদেশি ডাব করা সিরিয়াল বন্ধ ও অন্যান্য দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়।

এফটিপিও তাদের যে দাবিগুলো উপস্থাপন করেছে, এর মধ্যে কয়েকটি দাবি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন অনেক নির্মাতা। তাদের ভাষ্যÑ দাবিগুলোর মধ্যে কয়েকটি অযৌক্তিক।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে