ভোটের মাঠে ৬৮ নারী

  হাসান আল জাভেদ

২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভোটারের অঙ্কে পুরুষের সমানে সমান নারী। সংরক্ষিত আসনের বাইরে সরাসরি নির্বাচনী প্রার্থিতার লড়াইয়েও এগিয়ে ছিলেন তারা। পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করতে ভোটের প্রথম প্রহরে সবার আগে লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায় নারীদেরই। এবারের সংসদ নির্বাচনেও

ভোটের মাঠে লড়ছেন ৬৮ জন নারী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২০ জন সরাসরি নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি থেকে লড়ছেন ১৪ জন। বাকিরা জাতীয় পার্টিসহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তবে অতীতের চেয়ে এবারের নির্বাচনে নারীদের সরাসরি অংশ নেওয়ার হার বাড়লেও তা এখনো ১০ শতাংশের নিচে।

নেত্রীরা বলছেন, নারী-পুরুষ সমতার বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। নারীর ক্ষমতায়নের কথাও বলা হচ্ছে। কিন্তু সমানুপাতিক হারে ভোটের মাঠে সরাসরি নারীর অংশগ্রণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দৈন্য মানসিকতা রয়েছে। তবে আশার বিষয়ও আছে। ১৯৭০ সালের পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মাত্র দুজন নারী ভোটে অংশ নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পান। ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নির্বাচনে জাসদের একজন নারী প্রার্থীও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন। তবে এই অবস্থা থেকে নারীরা ঘুরে দাঁড়ায় ১৯৭৯ সালে। তখন মুসলিম লীগ থেকে একজন নারী প্রথম জয় পান। এবারের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় পার্টি নেত্রী রওশন এরশাদের বাইরে আরও বেশ কয়েকজন নারী অংশগ্রহণ করছেন। তবে অনেক প্রার্থীই স্বামী, বাবার বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারীর ক্ষমতায়নের যুগে রাজনীতিতে তাদের অংশীদারত্ব বাড়ছে। একই সঙ্গে ভোটদানেও নারীর অংশগ্রহণ বাড়া সত্যিই ইতিবাচক। সে কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীর ভোট জয়-পরাজয়ে বড় ফ্যাক্টর।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে নারী-পুরুষের সমাধিকারসহ সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলার অঙ্গীকার থাকতে হবে। দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রতিটি শাখায় ৩৩ শতাংশ নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে ভোটারসংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ২৫ লাখ ১২ হাজার ১০৫ জন, আর নারী ভোটার আছেন ৫ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৭৬ জন। সে হিসেবে ভোটারের ব্যবধান নয় লাখের মতো।

নারী নেত্রীরা বলছেন, ভোটার এবং ভোটপ্রদান দুই ক্ষেত্রেই নারীরা এগিয়ে। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র ১০ শতাংশ নারী সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও ভোটদানে তারা এগিয়ে ছিলেন। অথচ সমান সংখ্যক নারী ভোটার থাকা সত্ত্বেও সংসদে সরাসরি জনগণের প্রতিনিধি হয়ে আসেন তাদের মাত্র দশ শতাংশ। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী সংসদে ৫০ জন নারীর প্রতিনিধিত্ব রাখা হলেও উন্নয়ন কর্মকা-ে তাদের অংশ নেওয়া বা ভোটারের সঙ্গে মেলবন্ধনের সুযোগ নেই।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে