প্রথমবার ইভিএমে ভোট

  ইউসুফ আরেফিন

২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দলের বিরোধিতা সত্ত্বেও ছয়টি আসনে ভোটগ্রহণে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার হবে। সিটি করপোরেশন এলাকার সংসদীয় আসন থেকে লটারির মাধ্যমে এই ছয়টি আসন বাছাই করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসনগুলো হলো ঢাকা-৬ ও ১৩, চট্টগ্রাম-৯, রংপুর-৩, খুলনা-২ এবং সাতক্ষীরা-২।

ঢাকা-৬ আসনে ইভিএমে ভোট দেবেন ২ লাখ ৬৯ হাজার ২৭৬ জন ভোটার। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮ প্রার্থী। ঢাকা-১৩ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৬৯ জন। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১০ জন প্রার্থী। চট্টগ্রাম-৯ আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ৯০ হাজার ৩৬৩ জন। এখানে জনপ্রতিনিধি হতে লড়বেন ৮ প্রার্থী। রংপুর-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪১ হাজার ৬৭৩ জন। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ প্রার্থী। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী। খুলনা-২ আসনে সাত প্রার্থীকে ইভিএমে ভোট দেবেন ২ লাখ ৯৪ হাজার ৬২ জন ভোটার। আর সাতক্ষীরা-২ আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৮ জন। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৬ প্রার্থী।

একনজরে ইভিএম

একটি মেশিনে প্রায় চার হাজারটি পর্যন্ত ভোট দেওয়া যায়। সর্বোচ্চ ৬৪ প্রার্থীর তালিকা থাকে। বাটন চাপ দিয়ে অক্ষরজ্ঞানহীন ব্যক্তিও ভোট দিতে পারেন। একটি ভোট দিতে প্রায় ১৪ সেকেন্ড লাগে।

একজন ভোটার কোনোভাবেই একটির বেশি ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না। মেশিনটিতে একটি পূর্ব-প্রোগ্রামিং করা মাইক্রোচিপ থাকে, যা ভোটের ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে হিসাব করে প্রদর্শন করে।

ভোটার তার পছন্দের প্রতীকের পাশের সুইচ টিপে ভোট দিতে পারেন। প্রতিটি বুথে একটি ইভিএমের প্রয়োজন পড়ে। এটি কয়েকটি ইউনিটে ভাগ করা থাকে। এগুলো হলো-

ব্যালট ইউনিট : এখানে ভোটার তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন।

কন্ট্রোল ইউনিট : কন্ট্রোল ইউনিট থাকে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের সামনের টেবিলে।

ডিসপ্লে ইউনিট : ইভিএমের সঙ্গে একটি বড় ডিসপ্লে ইউনিট রাখা হয়েছে, যা এমন স্থানে রাখা হয়, যাতে বুথের ভেতর ভোটসংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টিগোচর হয়।

ব্যাটারি ইউনিট : এই মেশিন চালাতে দরকার হয় ১২ ভোল্টের একটি ব্যাটারি। এর মাধ্যমে মেশিনটি সারাদিন চলতে পারে।

স্মার্টকার্ড ও মাস্টারকার্ড : একটি ভোটিং মেশিন পরিচালনার জন্য সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে একটি করে স্মার্টকার্ডভিত্তিক আইডি কার্ড দেওয়া হয়। যে কার্ডটি ছাড়া কন্ট্রোল ইউনিট পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। ইউনিটগুলো ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে থাকলেও তারের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

আগে থেকেই নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে বিএনপি ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আর তথ্যপ্রযুক্তিতে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দাবি করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলছে, ভোটে ইভিএম ব্যবহার সময়ের দাবি। এরই মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলা-১ আসনে ইভিএমে ভোট নেওয়ার দাবি জানিয়ে ইসিকে চিঠি দেন। প্রথমে তিনি ওই আসনের প্রার্থী ছিলেন। পরে অবশ্য তাকে ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট।

ইভিএম নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভোট দেওয়া নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। তবে বিপরীত চিত্র বায়োজ্যেষ্ঠ ভোটারদের মধ্যে। তারা ইভিএম নিয়ে শঙ্কিত।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রকৌশলী লুৎফুল কবির বিবিসির কাছে ইভিএমে দুটি বিষয় সংযুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু ইসি তা মানেননি। ফলে এক প্রতীকের ভোট অন্য প্রতীকে চলে যেতে পারে। তার মানে, এই মেশিন দিয়ে ফল ম্যানিপুলেট করা সম্ভব। মেশিন ত্রুটিপূর্ণ থাকলে যে কোনো দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।

তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, আমরা প্রযুক্তি ব্যবহারের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছি। তাই ইসি কয়েকটি আসনে ইভিএম ব্যবহারের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা তা স্বাগত জানাই।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দিন আহমদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত ছয়টি আসনের প্রতিটিতে গড়ে ১৫০ কেন্দ্র ধরে সর্বোচ্চ ৯০০ কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে