ব্যাংকে বেশি জমায় কর বাড়ছে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ জুন ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ০২ জুন ২০১৭, ০৯:৫৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংক অ্যাকাউন্টের জমায় (ডেবিট ও ক্রেটিট) আবগারি শুল্কমুক্ত সীমা ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব হয়েছে। তবে এর চেয়ে বেশি জমায় আবগারি শুল্কের হার ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়া বিমান টিকিটের ওপর আবগারি শুল্ক বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হচ্ছে।

গতকাল জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

আগে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জমার ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক দিতে হতো না। ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫০ টাকা শুল্ক দিতে হতো। এখন এটি অব্যাহতি দিয়ে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত শুল্ক দিতে হবে না। ১ লাখ টাকা থেকে তদূর্ধ্ব জমার ক্ষেত্রে চারটি স্তরে শুল্ক আদায় করা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথম স্তরে ১ লাখ ১ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এরপর পৃষ্ঠা-৯, কলাম ৭

৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। দ্বিতীয় স্তরে ১০ লাখ ১ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত দেড় হাজার টাকা থেকে ৬৬ শতাংশ বাড়িয়ে আড়াই হাজার টাকা, তৃতীয় স্তরে ১ কোটি টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সাড়ে ৭ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হচ্ছে। ৫ কোটি টাকা থেকে তার বেশি জমার ক্ষেত্রে ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হচ্ছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের ‘ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যাট অল লেভেলস’ নীতি ও দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতির ফলে ব্যাংকিং খাতে লেনদেনের আকার ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বিবেচনায় রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দি এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট অ্যাক্ট ১৯৯৪-এর সংশোধনীর প্রস্তাব করছি।

সংশোধনী প্রস্তাবে মুহিত বলেন, বছরের যে কোনো সময় অ্যাকাউন্টে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডেবিট কিংবা ক্রেডিট হয়, এমন অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয় না। এখন ১ লাখ টাকার অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হবে।

তবে ১ লাখ ১ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকার ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক ৬০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১ লাখ টাকার বেশি ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিদ্যমান ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা, ১০ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত দেড় হাজার টাকার পরিবর্তে আড়াই হাজার টাকা, ১ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সাড়ে ৭ হাজার টাকার পরিবর্তে ১২ হাজার টাকা এবং ৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে বিদ্যমান ১৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।

এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ ও সার্কভুক্ত দেশগুলোয় ভ্রমণের ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক না বাড়িয়ে অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সার্কভুক্ত ছাড়া এশিয়ার অন্য দেশগুলোয় ভ্রমণে বিমানের টিকিটে শুল্ক ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য দেশের ক্ষেত্রে দেড় হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করছি। বিমানযাত্রীদের সুবিধার্থে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ টিকিটের সঙ্গে এই শুল্ক যুক্ত করে মূল্য আদায় করবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে