বিস্তার হচ্ছে ভ্যাট

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ জুন ২০১৭, ০১:৫২ | আপডেট : ০২ জুন ২০১৭, ১২:৩৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

বহুল আলোচিত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২ আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে। নতুন আইনে পণ্য ও সেবা বিক্রির ওপর অভিন্ন ১৫ শতাংশ হারে একক ভ্যাট বহালের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল জাতীয় সংসদে তিনি বাজেট প্রস্তাবনায় এমন কথা বলেন। অভিন্ন ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ বহাল রাখা হলেও বিপুল সংখ্যাক পণ্য ও সেবায় ভ্যাট অব্যাহতির ঘোষণা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ভ্যাট অব্যাহতির সীমাও বাড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ভ্যাট আইনে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন আইনে ভ্যাট আদায়ের বিস্তার বাড়বে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী ২ বছরে ভ্যাট রিটার্ন প্রদানকারী নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬০ হাজারে উন্নীত হবে। এজন্য নতুন ভ্যাট আইনের পদ্ধতি আরও সহজ করার কয়েকটি প্রস্তাবনাও দেওয়া হয়েছ।

এনবিআরের হিসাবে দেশে ৮ লাখ ৮৪ হাজার ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৩২ হাজারের কিছু বেশি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে ভ্যাটের আওতায় নিবন্ধিত সাড়ে ৮ লাখ শিল্প ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রয়েছে; কিন্তু মাত্র ৩২ হাজার প্রতিষ্ঠান রিটার্ন দেয়। এতে স্পষ্ট ভ্যাট অত্যন্ত সীমিত ক্ষেত্রে বহাল আছে। রিটার্ন প্রদানকারী নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আগামী দুই বছরে ৬০ হাজারে উন্নীত করতে চাই। সেজন্য নতুন ভ্যাট আইনের পদ্ধতি সহজ করার বিষয়ে কয়েকটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে রাজস্ব প্রশাসন প্রস্তুত। হিসাব সংরক্ষণের যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণের সুবিধার্থে এ আইনের বাস্তবায়ন ইতিপূর্বে দুবার পেছানো হয়। তবে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পৌনঃপুনিক আলোচনা এবং সে আলোকে আইনের কিছু কাঠামোগত সংস্কার সাধনের মাধ্যমে আইনটি বাস্তবায়নের পথে প্রভূত অগ্রগতি সাধন হয়েছে। ব্যবসায়ীরাও এখন নতুন ভ্যাট আইন গ্রহণে প্রস্তুত।

অভিন্ন ভ্যাট হার নিয়ে তিনি বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে এবং তাতে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। আমি ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশেই বহাল রাখার প্রস্তাব করছি। তিনি বলেন, মূল্য সংযোজন কর এক ও অভিন্ন হারে প্রয়োগ এবং আগামী তিন বছর তা অপরিবর্তিত থাকবে। তবে ব্যবসায়ীদের সুপারিশ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণে ভ্যাট অব্যাহতির সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেন। ঘোষণা অনুযায়ী বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতির সীমা বছরে ৩০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৬ লাখ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ মাসে গড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারধারী প্রতিষ্ঠানের কোনো কর দিতে হবে না। সেই সঙ্গে টার্নওভার করের সীমা বছরে ৮০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ যেসব প্রতিষ্ঠানের মাসিক টার্নওভার গড়ে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচে, তাদের ৪ শতাংশ হারে টার্নওভার কর দিতে হবে। এতদিন ৩০ লাখ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক টার্নওভারের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ, যা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে নেই। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রস্তাব অনুসারে নতুন ভ্যাট আইন ও বিধিমালার পদ্ধতিগত সহজীকরণ সংক্রান্ত কতিপয় সংশোধনী আনা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট আইনে আরও কিছু পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে নতুন বিধান অনুযায়ী সরবরাহ গ্রহণ ও তার অনুকূলে মূসক চালান থাকলেই রেয়াত গ্রহণ করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। সহযোগীর সংজ্ঞা থেকে আত্মীয় বাদ দেওয়া হয়েছে। দেশীয় শিল্প যে ধরনের সুরক্ষা ১৯৯১ সালের আইন অনুযায়ী পেত, নতুন আইনের অধীনেও ওই সুরক্ষা অব্যাহত রাখা হয়েছে। বাণিজ্য সুরক্ষায় আমদানি পর্যায়ে ১ হাজার ৬৬৬টি এইচএস লাইনের আওতায় বিদ্যমান সব পণ্যে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

ভ্যাট আইনের ১২৯ ক ধারায় বলা হয়, সরল বিশ্বাসকর্তৃক কাজকর্ম রক্ষণÑ এই আইনের অধীনে কোনো ব্যক্তির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তার জন্য বোর্ড বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা করা যাবে না।
ভ্যাট আদায় কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ

আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ভ্যাট আদায়ে আইনে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভ্যাট আদায়ের কাঠামো আরও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গতকাল বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এসব তথ্য জানিয়েছেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, অনলাইনে ভ্যাট আদায় বাড়ানোর জন্য ইসিআর মেশিন দেওয়ার প্রবণতা আরও বাড়ানো হবে। এনবিআরের কেন্দ্রীয় ভ্যাট সার্ভারের সঙ্গে সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এ ছাড়া আরও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভ্যাটকে কার্যকর একটি করে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালে ভ্যাট অনলাইন প্রজেক্ট নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ করদাতাদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। শিগগিরই অনলাইন রিটার্ন সাবমিশনের কাজ শুরু হবে।

ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের আওতায় ২ লাখের বেশি করদাতাদের আইনের সার্বিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদেরও এর আওতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতাধীন মাঠ পর্যায়ের ভ্যাট দপ্তরগুলো করদাতা উদ্বুদ্ধকরণমূলক সভা, সেমিনার, ওয়ার্কসপ আয়োজনসহ এফবিসিসিআই, এমসিসিআই, ডিসিসিআই ও দেশের বিভিন্ন চেম্বারের সঙ্গে ‘পার্টনারশিপ ডায়লগ’ সম্পন্ন করা হয়েছে। ভ্যাট সংক্রান্ত যে কোনো বিষয়ের জিজ্ঞাসা থাকলে ১৬৫৫৫ নাম্বারে কল করলে তার জবাব জানা যাবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে