অল্প কথায় বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর লিখলে বেশি নম্বর পাবে

  অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষক ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক

২৭ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আমি নোট, গাইড বইয়ের চেয়ে ওই সব বিষয়ের মূল পাঠ্যবইগুলো পড়তাম বেশি। তা ছাড়া ওই বিষয়সংশ্লিষ্ট আরও লেখাজোখা পাওয়া যায়। সেগুলো পড়ার চেষ্টা করেছি। তাতে একটু ভালো হয়। পরীক্ষকরা সব খাতায় যখন ওই গাইড বইয়ের একই উত্তর দেখেন। তখন নম্বরে বেশি হেরফের থাকে না। যখন দেখা যায় নতুন কিছু কেউ লিখেছে, যার হাতের লেখা একটু সুন্দর, গুছিয়ে লিখেছে, খাতা দেখতে ঝকঝকে মনে হচ্ছে। তখন শিক্ষকরা নম্বর বেশি দেন

প্রথমে মূল বইগুলোকে ভালো করে পড়তে হবে। মূল বই পড়ার বিকল্প নেই। এখন গাইড বই পড়ার কারণে মৌলিকতাটা তৈরি হচ্ছে না। মুখস্থ বিদ্যা হচ্ছে কিন্তু নিজে পড়লে নিজের মন থেকে একটা বিষয় আসে আর তা সক্রিয় হয়। আমি বলব, মূল বই যেন ছাত্রছাত্রীরা পড়ে। আর দ্বিতীয়ত, পরীক্ষার খাতায় উত্তর খুব দীর্ঘ করার প্রয়োজন নেই। আমার নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এখন তো সবাই অনেক ব্যস্ত। যে শিক্ষকরা খাতা দেখেন তারাও অনেক ব্যস্ত। তাই অনেক দীর্ঘ উত্তর লিখলে তারা অনেক সময় ভালো করে পড়েন না। কোনো রকম দেখে নম্বর দেন। তাতে নম্বর কমে যায়। খাতার মার্জিন ঠিকমতো রেখে যথাসম্ভব পরীক্ষার খাতা পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। অল্প কথায় বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর লিখতে হবে। তাতেই কিন্তু জিপিএ ফাইভ পাওয়া যায়। দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর টেনে লম্বা না করে অল্প কথায় মূল কথাগুলো সুন্দর করে গুছিয়ে দিলে বেশ ভালো নম্বর পাওয়া যাবে। তা ছাড়া পরীক্ষার আগে শরীরের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। পরীক্ষার আগে অসুখ-বিসুখ হয়ে গেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে তাই একটু হাঁটাচলা করলে, সুষম খাবার খেলে, সময়মতো ঘুমালে শরীর ঠিক থাকবে। অনেকক্ষণ বই নিয়ে পড়লে তারপর অল্প সময়ের জন্য একটু হাঁটাচলা করতে হবে। তা হলে একটু রিক্রেশন হবে। আর শরীরও সতেজ থাকবে। আর এখন বেশি চিন্তা করারও দরকার নেই। দুশ্চিন্তা করলে পরীক্ষায় এর প্রভাব পড়তে পারে। আর এখন যথাসম্ভব রিল্যাক্স থাকা যায়। সেটা থাকতে হবে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া যাবে না। মানসিক শক্তি রাখতে হবে। আর আমার সামনে যদি পরীক্ষার্থীরা কখনো আসে, তা হলে তাদের আরও অনেক অভিজ্ঞতার কথা বলতে পারব। আমাদের সময় প্রশ্ননির্ভর পরীক্ষাগুলো ছিল। অনেকে শুধু প্রশ্ন বাছাই করে পড়তে চায়। আমরাও যে একেবারে প্রশ্ন বাছাই করে পড়িনি তা নয়। তবে আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আমি নোট, গাইড বইয়ের চেয়ে ওই সব বিষয়ের মূল পাঠ্যবইগুলো পড়তাম বেশি। তা ছাড়া ওই বিষয়সংশ্লিষ্ট আরও লেখাজোখা পাওয়া যায়। সেগুলো পড়ার চেষ্টা করেছি। তাতে একটু ভালো হয়। পরীক্ষকরা সব খাতায় যখন ওই গাইড বইয়ের একই উত্তর দেখেন। তখন নম্বরে বেশি হেরফের থাকে না। যখন দেখা যায় নতুন কিছু কেউ লিখেছে, যার হাতের লেখা একটু সুন্দর, গুছিয়ে লিখেছে, খাতা দেখতে ঝকঝাকে মনে হচ্ছে। তখন শিক্ষকরা একটু নম্বর বেশি দেন। এসব বিষয়ের দিকে এখন ছেলেমেয়েরাও খেয়াল রাখতে পারে। আমি পরীক্ষার আগের রাতে ৯টা থেকে ১০টার বেশি রাত কখনো জাগিনি। চেষ্টা করেছি পরীক্ষার আগেই সিলেবাস শেষ করে ফেলার জন্য। পরীক্ষার আগে শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া না করে আগে থেকে একটু ভাগ করে নিয়ে পড়লে ভালো হয়। দৈনিক ৩-৪ ঘণ্টা নিয়মিত পড়লে অষ্টম শ্রেণিতে পর্যন্ত যথেষ্ট হয়। নিয়মিত পড়াশোনা করলে পরীক্ষার আগে তাড়াহুড়াও থাকে না। আর দুশ্চিন্তাও থাকে না।

হ অনুলিখন : এমএম মুজাহিদ উদ্দীন

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে