মা নিয়ে ৩টি বিখ্যাত সিনেমা

  অনলাইন ডেস্ক

১৪ মে ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

টু উইমেন : সন্তানকে বাঁচাতে মায়ের সংগ্রামের অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে ‘ক্ল্যাসিক সিনেমা’র মাঝে ঠায় করে নিয়েছে ১৯৬০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এ সিনেমাটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতায় কুঁকড়ে যাওয়া মানবতার করুণগাথা সবচেয়ে ভালোভাবে তুলে এনেছিলেন বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্রকার ভিত্তোরিও ডি সিকা। বিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক হিসেবে বিবেচিত আলবার্তো মোরাভিয়ার লেখা ‘টু উইমেন’ উপন্যাসকে তিনি বেছে নিয়েছিলেন যুদ্ধের করাল গ্রাসে হারিয়ে যাওয়া এক মা-মেয়ের করুণ গল্প বলার জন্য। স্বৈরতন্ত্রের নৃশংসতা ও মানববিদ্বেষী দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে এখানে। নাৎসি বাহিনীর আক্রমণে দিশাহারা হয়ে অন্যান্য রোমবাসীর সঙ্গে লাতসিওতে পালিয়ে আসে সেসিরা তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে রোসেত্তাকে নিয়ে। একদিকে প্রাণ হারানোর ভয়, অন্যদিকে শত্রুশিবিরের লালসা থেকে নিজের মেয়েকে বাঁচাতে মায়ের সংগ্রামের সবকিছুই ‘টু উইমেন’-এ উঠে আসে। কিংবদন্তি অভিনেত্রী সোফিয়া লোরেন অভিনয় করেছিলেন এ সিনেমায় মা সেসিরার ভূমিকায়। এ চরিত্রে তার দুর্দান্ত অভিনয় তাকে এনে দিয়েছিল অস্কারসহ মোট ২২টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার।

টার্মস অব এনডিয়ারমেন্ট : মায়েদের নিয়ে আবেগী একটা চলচ্চিত্র হলো ‘টার্মস অব এনডিয়ারমেন্ট’। জেমস এল. ব্রুকসের পরিচালনায় ১৯৮৩ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি সেবার অস্কার আসর করে নিয়েছিল নিজেদের। ১১টি মনোনয়নের মাঝে জিতেছিল সেরা সিনেমার পুরস্কারসহ পাঁচটিতে। মা অরোরার চরিত্রে অভিনয় করা শার্লি ম্যাকলেইন জিতেছিলেন সেরা অভিনেত্রীর অস্কার। মা-মেয়ের ৩০ বছরের গল্প নিয়ে এ চলচ্চিত্র। বাবাহীন এমাকে আগলে রেখে অরোরা খুঁজে ফেরে সত্যিকারের ভালবাসা। এদিকে এমাও বড় হয়ে জড়িয়ে পড়ে জটিল এক সম্পর্কে, নিজেও অর্জন করে মাতৃত্বের স্বাদ। তাদের চারপাশের পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে শুরু করলেও একান্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এই মা-মেয়ে দুজনেই এগিয়ে আসে একে অপরের সাহায্যে।

দ্য ব্লাইন্ড সাইড : ফুটপাথে এক মাদকাসক্তের ঔরসে জন্ম হয়েছিল মাইকেল ওহারের। মাত্র সাত বছর বয়সেই মায়ের কাছ থেকে পরিত্যক্ত হয় সে। ছোটবেলা থেকেই ওহারের স্বপ্ন ছিল, বড় হয়ে নামকরা ফুটবলার হবে সে। কিন্তু তার গায়ের কালো রঙই যে তার স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা! শিশু ওহারের স্বপ্ন সাদা মানুষদের পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে হারিয়েই যেত, যদি না কৈশোরে আরেক শেতাঙ্গ নারী মাতৃস্নেহে বুকে টেনে না নিতেন তাকে। পরিবারে ওর এর উপস্থিতি তাদের নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে ভাবতে শেখায়। মার্কিন ফুটবল তারকা মাইকেল ওহার আর তার ‘মা’ লেই অ্যান টুওহির গল্প নিয়েই তৈরি হয়েছে কম বাজেটের চলচ্চিত্র ‘দ্য ব্লাইনইড সাইড’। রক্ত সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও গৃহহারা কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরকে নিজের ছেলের মতো আগলে রাখা এক শ্বেতাঙ্গ নারীর এ গল্প সেলুলয়েডের পর্দায় অনন্য। তাই তো ২০০৯ সালে জন লি হ্যানক নির্মিত এ সিনেমাটিতে লেই অ্যানের ভূমিকায় অভিনয় স্যান্ড্রা বুলককে এনে দিয়েছিল সেরা অভিনেত্রীর অস্কার।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে