শেখানোর পথে আমাদের বিজয়

  আয়মান সাদিক

১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের সব কিছু শহরকেন্দ্রিক তথা ঢাকাকেন্দ্রিক বললে খুব একটা ভুল বা অন্যায় হবে না। শিক্ষাক্ষেত্রও এর ঊর্ধ্বে নয়। এখনো আমাদের অনেকের ধারণা, গুণগত শিক্ষা বা উন্নত শিক্ষা বোধহয় কেবল শহরেই মেলে। আবার অন্যদিকে শুধু শহরে জীবনযাপনের ব্যয় বহনে অক্ষম হওয়ায় কত রঙিন স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটে। সেই হিসাব কখনো কোনো পরিসংখ্যানে উঠে আসে না। সেসব বর্ণিল স্বপ্নগুলো বাঁচিয়ে রাখতে দেখা এক স্বপ্নের নাম রবিÑ টেন মিনিট স্কুল, যার যাত্রার শুরুটা হয়েছিল শিক্ষাক্ষেত্রে ভৌগোলিক এবং অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে। শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান যে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে একেবারেই তুচ্ছ, সেটি প্রমাণ করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। দুটো প্রতিবন্ধকতা দূর করার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার অগ্রযাত্রায় প্রতিনিয়ত সামনে এসেছে আরও অগণিত প্রতিবন্ধকতা। কিন্তু সেসব দমাতে পারেনি আমাদের স্বপ্ন। অদম্য ইচ্ছা আর প্রচেষ্টার কাছে পরাজিত হয়েছে সব প্রতিবন্ধকতা, বিজয়ী হয়েছে আমাদের স্বপ্ন আর সেটির পেছনে দেওয়া শ্রম।

এই তো কিছুদিন আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের মতো একটা জায়গায় অনলাইনে পড়াশোনা করার বিষয়টা কল্পনাতীত ছিল। অথচ সেটা এখন এক চমৎকার বাস্তবতা। রবিÑ টেন মিনিট স্কুল বর্তমানে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ অনলাইন এডুকেশনাল প্লাটফর্ম, যেখানে দৈনিক আড়াই লাখেরও অধিক শিক্ষার্থী অনলাইনে বিনা অর্থে শিক্ষাসেবা নিচ্ছে। অন্যদিকে ফেসবুক আর পড়াশোনা অনেকটা সাপ-নেউলে কিংবা দা-কুমড়ার সমতুল্য। অথচ আমাদের স্কুলে পড়াশোনাও হয় ফেসবুকে। টেন মিনিট স্কুল লাইভ নামের ফেসবুক গ্রুপটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্টুডেন্ট কমিউনিটি, যেখানে প্রায় ১৩ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী একসঙ্গে পড়াশোনা করছে, পড়াশোনাসংক্রান্ত যে কোনো সমস্যায় একে অপরকে সাহায্য করছে, নিজেদের অতিযতেœ তৈরি করা নোট একসঙ্গে পুরো ১৩ লাখ মানুষের সঙ্গে শেয়ার করছে। অথচ একটা সময় এই নোটগুলো ছিল নোটের মালিকের একেবারে অতিগোপনীয় মূল্যবান সম্পত্তি, যেগুলো কেউ কখনো বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করার কথা কল্পনাও করতে পারত না। আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে সেই নোটগুলোই ছিল পরম আরাধ্য বস্তু! এই মূল্যবান গোপনীয় সম্পত্তি অর্থাৎ অতিযতেœ করা নোটগুলোই টেন মিনিট স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত শেয়ার করছে ১৩ লাখ মানুষের সঙ্গে। একজন মানুষের অতিযতেœ করা নোট থেকে পড়াশোনা করছে ১৩ লাখ শিক্ষার্থী। অথচ এই আমাদের মানে বাংলাদেশের মানুষের নামে একটা বেশ পরিচিত অপবাদ আছে। আর সেটা হলোÑ আমরা বাঙালিরা আইডিয়া শেয়ার বা সহজ কথায় যদি বলি, নিজে যেটা শিখি বা জানি, সেটা অন্যকে শেখানো কিংবা জানানোর বেলায় বড়ই কৃপণ। এই একেবারে কল্পনাতীত কিংবা অবাস্তব বিষয়টি বাস্তবে রূপদান করে সেই অপবাদটা ভুল প্রমাণ করেছে আমাদেরই প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীরা।

আমাদের এত এত অর্জন আর সম্মাননার মধ্যেও আমরা এটা বলতে বাধ্য হচ্ছি, আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো দেশের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অগাধ ভালোবাসা, সম্মান আর নির্ভরতা! আর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে কুইন্স ইয়ং লিডার অ্যাওয়ার্ড, ফোর্বস থার্টি আন্ডার থার্টি, আইসিটি অস্কারখ্যাত অ্যাপিকটা অ্যাওয়ার্ড, মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসখ্যাত গ্লোমো অ্যাওয়ার্ড অন্যতম! কিছুদিন আগেই অনুষ্ঠিত হওয়া ডিজিটাল মার্কেটিং সামিট-২০১৮-তে তিন-তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার অর্জন করি আমরা। এ ছাড়া আরও বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মাননা রয়েছে আমাদের ঝুলিতে!

আর আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, খুব শিগগিরই প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পুরো সিলেবাসের সব কনটেন্টসহ রবিÑ টেন মিনিট স্কুলের অ্যাপটা চলে আসছে ইনশাআল্লাহ! এবং আমাদের স্বপ্ন একদিন সারা বাংলাদেশের নিবন্ধনকৃত এক লাখ সত্তর হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর চার কোটি সাতাশ লাখ শিক্ষার্থী আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে। আমাদের প্রত্যাশা, একদিন আমরা আমাদের নামে প্রচলিত অপবাদ যেখানে আমাদের শেখানো ও জানানোর ক্ষেত্রে কৃপণ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে, সেটার বেড়াজাল ছিন্ন করে বেরিয়ে আসব। আইডিয়া শেয়ারিং নিয়ে কার্পণ্য না করে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আইডিয়াগুলো বাস্তবে রূপদান করব। নিজে যা জানি ও শিখি, সেটি যেন সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার মনোভাবটুকু আমাদের থাকে, সেদিকটা যেন সুনিশ্চিত করতে পারি।

আর সবশেষে এটাই বলতে চাই, আমরা বিশ্বাস করি, শেখার কোনো শেষ নেই। তাই আমাদের প্রতিপাদ্য- ‘ঘবাবৎ ঝঃড়ঢ় খবধৎহরহম!’

আয়মান সাদিক

লেখক : প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা

টেন মিনিট স্কুল

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে