জহুরুলের প্রশংসায় সাকিব

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:২৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘লোকালবয়’ জহুরুল ইসলাম অমির ব্যাটেই জয় পেল ঢাকা। গতকাল খুলনাকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ঢাকাকে জয়ী করে মাঠ ছাড়েন জহুরুল ইসলাম। তবে কাইরন পোলার্ড বিস্ফোরক ইনিংস না খেললে জয় পাওয়া সহজ হতো না!

সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৪ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেছেন পোলার্ড। জহুরুল ইসলাম ৩৯ বলে অপরাজিত ছিলেন ৪৫ রানে। ম্যাচশেষে দুই সতীর্থকে প্রশংসা বৃষ্টিতে সিক্ত করেছেন সাকিব আল হাসান। ঢাকার অধিনায়ক বলেছেন, ‘পোলার্ড ও জহুরুল সত্যিই অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। এটাই প্রমাণ করে আমাদের দল নির্দিষ্ট কোনো একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল নয়।’

৪১ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারায় ঢাকা। খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলেছেন জহুরুল-পোলার্ড। সাকিব বলেন, ‘পাওয়ারপ্লের মধ্য আপনি যখন ২-৩টা উইকেট হারাবেন তখন ১৬০-এর মতো রান চেজ করাটা সত্যিই কঠিন। কিন্তু আমরা আজ (গতকাল) এটি করে দেখিয়েছি। আমি মনে করি এটা আমাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দেবে। এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ বিপিএলের জন্য খুবই ভালো। এটা আমাদের ক্রিকেটকে আরও উন্নত করবে।’ ২৯ বলে ৬৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলা খুলনার কার্লোস বার্থওয়েটেরও প্রশংসা করেছেন সাকিব। তিনি বলেছেন, ‘খুলনার হয়ে দারুণ ব্যাটিং করেছেন বার্থওয়েট। তার ব্যাটিংই খুলনাকে ম্যাচে ফেরায়। আমরাও সেট হওয়ার আগেই বেশ কয়েকটা উইকেট হারিয়েছি।’

এদিকে দলকে জেতাতে পেরে খুশি ম্যাচসেরা জহুরুল ইসলাম। শেষ ৬ বলে ৬ রান দরকার ছিল। শেষ ২ বলে চার। বার্থওয়েট ইয়র্কার মারছিলেন। প্রথম দুই ইয়র্কারে রান নিতে পারেননি জহুরুল। তবে পঞ্চম বলে রিভার্স স্কুপ শট খেলেন। তাতে সফলও হয়েছেন। বল চলে যায় সীমানায়। এক বল বাকি থাকতেই ঢাকা ম্যাচটি জিতে নেয়। জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘এ শট আমি এই প্রথম ম্যাচে খেললাম। এর আগে অনুশীলনে এমন শট খেলেছি। ও (বার্থওয়েট) ইয়র্কার মারছিল। প্রথম দুই বলে আমি চার মারতে গিয়েছিলাম কিন্তু পারিনি। আমার জন্যই দল বিপদে পড়ে গিয়েছিল! ওই সময় মনে হয়েছে ওই শটটা (রিভার্স স্কুপ) খেলে দেখতে পারি। তাতে সফল হয়েছি। আমি খুশি।’

ঢাকার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ। আগের তিন ম্যাচে টপঅর্ডারই দলকে জিতিয়েছে। টপঅর্ডারে অধিকাংশই বিদেশি ক্রিকেটার। স্থানীয়রা তাই তাদের শক্তিমত্তা দেখাতে পারছিলেন না। অবশেষে চতুর্থ ম্যাচে এসে জহুরুল ইসলাম সুযোগ পেলেন এবং নিজেকে প্রমাণ করলেন। তিনি বলেন, ‘আমার জন্য সুযোগ বলতে পারেন। আমি খুশি। কারণ ম্যাচটি আমি শেষ করে আসতে পেরেছি।’ জহুরুল কৃতিত্ব দিয়েছেন সতীর্থ পোলার্ডকেও, ‘ও যখন ব্যাটিংয়ে নামে তখন ওভারপ্রতি ১৪-এর মতো রান লাগত। পোলার্ড ঝড়ো ব্যাটিং করায় তা কমে আসে।’

এদিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কিছুটা হতাশ। খুলনার অধিনায়ক বলেন, ‘শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের বোলাররা দারুণ বোলিং করেছে। আমি কিছুটা হতাশ। তবে ছেলেরা যেভাবে লড়াই করেছে তাতে আমি খুশি।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে