আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন খালেদ মাহমুদ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। মার্চে নিধাস কাপে অংশ নিতে শ্রীলংকা সফরে যাবে টাইগাররা। আসন্ন এ সিরিজেও দলের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে মাহমুদের হাতেই। তবে গতকাল সংবাদমাধ্যমকে বর্তমানে বাংলাদেশ দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করা খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘নিধাস কাপে দায়িত্বে কে থাকবে, তা ঠিক করবে বোর্ড। ব্যক্তিগতভাবে আমি দায়িত্ব চালিয়ে যেতে একটুও আগ্রহী নই। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সঙ্গে আমার কাজ করতে ইচ্ছেই করছে না। নোংরা লাগছে জায়গাটা।’

কেনইবা এত অভিমান খালেদ মাহমুদের? টাইগারদের নতুন বছরের শুরুটা হয়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজ দিয়ে। জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ওই সিরিজের ফাইনালে শ্রীলংকার কাছে বাজেভাবে হেরে যায় মাশরাফি বাহিনী। এমনকি হাথুরুসিংহের শ্রীলংকার কাছে টেস্টেও শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে মাহমুদউল্লাহ, তামিমদের। ত্রিদেশীয় ও বাংলাদেশ-শ্রীলংকার মধ্যকার চলমান দ্বিপক্ষীয় সিরিজে (টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি) টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন খালেদ মাহমুদ। দেশের মাটিতে দলের এমন ভরাডুবির পর থেকেই সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছেন টাইগাররা। টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদেরও মু-ুপাত করা হচ্ছে। আদতে তিনি টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হলেও হেড কোচের ভূমিকা যে পালন করছেন, তা তো কারোরই অজানা নয়!

চারপাশ থেকে ধেয়ে আসা সমালোচনার তীরে ক্ষতবিক্ষত খালেদ মাহমুদ। কিছুদিন আগেও তিনি বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নিতে মুখিয়ে ছিলেন। সাউথ আফ্রিকা সিরিজের পর চন্ডিকা হাথুরুসিংহে পদত্যাগ করায় সুযোগ পান মাহমুদ। যদিও তাকে কাগজে-কলমে হেড কোচ করা হয়নি। তবে মুদ্রার অপর পিঠ দেখে বেজায় চটেছেন তিনি। কোচিং স্টাফদের ওপর নয়, বরং দলের ব্যর্থতার দায়ভার তিনি দিচ্ছেন ক্রিকেটারদের ওপরই। খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘কোচিং বাংলাদেশ দলে যা হতো, এবার তার চেয়ে ভালো হয়েছে। কিন্তু কোচরা তো মাঠে খেলবে না, মাঠে খেলবে ক্রিকেটাররা।’ তার মতে, মাঠে সুযোগ হাতছাড়া করার কারণেই জয়বঞ্চিত হয়েছে দল।

চলমান সিরিজ ছাড়াও উঠে এলো নিধাস কাপ প্রসঙ্গও। তবে পরের সিরিজে তিনি আর দলের সঙ্গে কাজ করতে চান না বলেই জানালেন। বিসিবির এই প্রভাবশালী পরিচালক গণমাধ্যমেরও সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাঙালি কেউ কাজ করলেই সবচেয়ে বড় সমস্যা। দল হেরে যাওয়ার পরও যে আমি এই দেশে আছি, এটাই বড় কথা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনায় ভুল থাকতেই পারে, কিন্তু আরও অনেক ঘটনা তো মিডিয়ায় আসে। আমার ওপরও অনেক দায় আসে। আমি এটা বোর্ডকে বলব।’

চট্টগ্রাম টেস্টে খেলানো হলেও হঠাৎ করে ঢাকা টেস্টের একাদশ থেকে বাদ দেওয়া হয় মোসাদ্দেককে। দলের সঙ্গে না রেখে তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর হয়ে খেলতে। এ নিয়ে অনেক প্রশ্ন ওঠে। কেননা বিসিবির কয়েকজন প্রভাবশালী কর্তা এই ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এমনকি ক্লাবটির কোচ খালেদ মাহমুদ। মোসাদ্দেককে বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার সিদ্ধান্ত নয়। কেননা আমি তো গড নই। আমি একটা খালেদ মাহমুদ সুজন, সামান্য একজন মানুষ। যখন বলা হয় আমি আবাহনীর প্রধান কোচ, মোসাদ্দেককে খেলাইনি আবাহনীতে খেলানোর জন্য যখন জাতীয় স্বার্থের কথা বলে কেউ এ ধরনের কথা বলে, তখন সত্যিই কষ্ট পাই।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে