মাঠের মোস্তাফিজ আলাদা

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

২২ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৮, ০১:৩১ | প্রিন্ট সংস্করণ

১৮তম ওভারে কী দুর্দান্ত বোলিংই না করেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল জেতার জন্য ভারতের দরকার ছিল ১৮ বলে ৩৫ রান। উইকেটে ছিলেন বিজয় শংকর ও মনিশ পান্ডে।

বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ১৮তম ওভারে বোলিংয়ে আনেন কাটার মাস্টারকে। আগের তিন ওভারেও মোস্তাফিজ ছিলেন আপন আলোয় উজ্জ্বল। নিজের শেষ ওভারে এসে বল হাতে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলেন বাঁহাতি এ পেসার। ফাইনালে মোস্তাফিজের বোলিং ফিগার ছিল ৪-১-২১-১।

স্ট্রাইকপ্রান্তে থাকা বিজয় শংকর প্রথম চার বলে কোনো রানই নিতে পারেননি। পঞ্চম বলে লেগ বাই থেকে আসে এক রান। শেষ বলে মনিশ পান্ডের উইকেট শিকার করেন মোস্তাফিজ।

ব্যস! শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা তখন অনেকটাই হেলে পড়ে বাংলাদেশের দিকে। কিন্তু তখনো কি কেউ ভাবতে পেরেছিলেন, আরও একবার স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হবে টাইগারদের? রুদ্ধশ্বাস ফাইনালের সমাপ্তি ঘটবে শেষ বলে তাও আবার ছক্কার মধ্য দিয়ে?

মোস্তাফিজের করা ১৮তম ওভারটাই ভারতের জয়ের সমীকরণ অনেক কঠিন করে দিয়েছিল। কাটার মাস্টারের বল বুঝতেই পারেননি ভারতের ব্যাটসম্যান বিজয় শংকর। সেদিন নাকি শংকর ভেতরে ভেতরে ভয়ও পেয়েছিলেন। তার মনে হচ্ছিল, হয়তো বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটি নাও জিততে পারে ভারত।

বাঁ কাঁধের সøাপে অস্ত্রোপচার করানোর পর থেকেই নিজের ছায়া হয়েছিলেন মোস্তাফিজ। তবে ধীরে ধীরে বাঁহাতি পেসার তার হারানো ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন। তার মূল অস্ত্র কাটার। এ ছাড়া সেøায়ার ও ইয়র্কারেও সিদ্ধহস্ত তিনি। কাটার, সেøায়ার ও ইয়র্কারে এখন নিয়মিতই প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানকে শিকার করছেন মোস্তাফিজ।

ভারতের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই আলোড়ন ফেলে দেওয়া মোস্তাফিজকে বেশ ভালোমতোই চেনেন বিজয় শংকর। ভারতের ব্যাটসম্যান জানেন, সে কত বড় মাপের বোলার। তাই তো ফিজকে মোকাবিলা করার সময় তাকে ভাবতে হয়েছে। শংকর বলেছেন, মোস্তাফিজকে নেটে দেখা এবং মাঠে মোকাবিলা করা সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি বলেন, ‘আমি খুব বেশি ডট বল দেই না। সব সময় বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তোলার চেষ্টা করি। তবে সেদিন ওই ওভারে মোস্তাফিজ অসাধারণ বোলিং করেছে।’

আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সতীর্থ হিসেবে মোস্তাফিজকে পেয়েছিলেন বিজয় শংকর। ২৭ বছর বয়সী ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান বলেন, ‘অন্য কোনো দিনে এমন অবস্থায় আমি বলগুলো ছেড়ে দিতাম না। চাপের অজুহাত দেব না, কিন্তু মনে হয় এটা আমার দিন ছিল না।’

১৯ বলে ১৭ রান করে আউট হওয়া বিজয় শংকর আরও বলেছেন, ‘ওই ম্যাচে আমার সামনে হিরো হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু আমি তা পারিনি। সত্যি বলতে কি আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। আমার উচিত ছিল ম্যাচটা শেষ করে আসা।’

মোস্তাফিজের ওই ১৮তম ওভারটাই বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছিল। তবে ১৯তম ওভারে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় টাইগাররা। অভিজ্ঞ বোলার রুবেল হোসেন ওই ওভারে মোট ২২ রান দিলে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ধূসর হয়ে যায় সাকিববাহিনীর।

তার পরও শেষ ওভারে ম্যাচ জমে উঠেছিল। শেষ বলে জয়ের জন্য ভারতের দরকার ছিল ৫ রান। পার্টটাইমার পেসার সৌম্য সরকারের বলে ছক্কা মেরে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের সমাপ্তি ঘটান উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান দিনেশ কার্তিক। ভারতের ব্যাটসম্যান এদিন অতিমানবীয় ইনিংস খেলেছেন। ৮ বলে অপরাজিত ২৯ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে শিরোপা জয় থেকে বঞ্চিত করেছেন কার্তিক।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে