ক্রোয়েটদের নায়ক ‘সুপার মারিও’

  আবীর রহমান

১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:১৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

একটা সাদা ক্যানভাস স্বপ্নের রঙে রাঙাতে রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া ও ইংল্যান্ড। প্রথবারের মতো বিশ্বকাপে ফাইনালে খেলার স্বপ্নে বিভোর ক্রোয়েশিয়ার সামনে ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। ধীরে ধীরে একটি একটি করে ম্যাচ জিতে বড় স্বপ্ন দেখা ক্রোয়েশিয়া ফুটবলের সোনালি প্রজন্ম ইতিহাস গড়ল মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে। অতিরিক্ত সময়ে ক্রোয়েশিয়ার ক্যানভাস রাঙিয়ে দিলেন মারিও মানজুকিচ। ‘সুপার মারিও’ খ্যাত মানজুকিচের ১০৯ মিনিটে করা গোলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল ক্রোয়েশিয়া। ইতিহাসের নায়ক বনে গেলেন মানজুকিচ। এখন ফাইনালের মঞ্চে নিজেদের সুবাস ছড়ানোর অপেক্ষায় ক্রোয়েটরা।

দ্বিতীয় রাউন্ডের পর কোয়ার্টার ফাইনালেও ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচ গড়িয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও ম্যাচ গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। স্বাভাবিকভাবেই ক্রোয়েট খেলোয়াড়রা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। মারিও মানজুকিচ তো এক প্রান্তে শুয়েই পড়েছিলেন একটা সময়। সেটা অবশ্য অল্প সময়ের জন্য। শেষ পর্যন্ত এই ক্লান্ত মানজুকিচই ক্রোয়েশিয়ার ত্রাতারূপে ফিরলেন আরও একবার। বড় ম্যাচে বড় কিছু করার জন্যই তো জন্ম মানজুকিচের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৯ মিনিটে গোল করে আবারও তা প্রমাণ করলেন ‘সুপার মারিও’। নিজের দিকে উড়ে আসা বলে হেড করেছিলেন ইভান পেরিসিচ, কাউকে লক্ষ্য করেও হেডটা করেননি। ডিবক্সের ভেতর ফেলবেন, এটাই হয়তো তার ভাবনা ছিল। ডি-বক্সে দুই ইংলিশ ডিফেন্ডার মার্ক করে রেখেছিলেন মানজুকিচকে। দুজনকেই ফাঁকি যেভাবে বল পেলেন, সেভাবেই মারলেন, বাঁ পায়ে। হয়ে গেলেন নিখুঁত শিল্পী। গোল! ইতিহাস গড়া হয়ে গেল ক্রোয়েশিয়ার!

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যেখানে নাম্বার নাইনরা ধুঁকেছেন গোল পেতে, সেখানে ‘সাবেক’ এক নাম্বার নাইন বাকি সবাইকে পেছনে ফেলে দলকে টেনে তুললেন স্বপ্ন পূরণের পথে। মানজুকিচের অবশ্য বড় ম্যাচে গোল করাটা অভ্যাসই বলা চলে। ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখকে এগিয়ে দেওয়ার প্রথম গোলটা ছিল তারই করা। ৪ বছর পর কার্ডিফের ফাইনালে চোখ ধাঁধানো এক গোল করে মানজুকিচই ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছিলেন জুভেন্টাসকে। দুই চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে দুই দলের হয়ে গোল করা এবং বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে গোল করা একমাত্র খেলোয়াড় হয়ে গেছেন তিনি। দলের প্রয়োজনে উইঙ্গার হিসেবে খেললেও সময়মতো তিনি যে একজন জাত স্ট্রাইকার সেই প্রমাণ নিয়মিতই দিয়ে যাচ্ছেন মানজুকিচ।

দ্বিতীয় রাউন্ডে ডেনমার্কের বিপক্ষে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ার পর মাত্র দুই মিনিট পরই মানজুকিচই গোল করে ফিরিয়ে এনেছিলেন দলকে। মানজুকিচের বয়স হয়ে গেছে ৩২, এটাই শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার কথা। জীবনের সবচেয়ে বড় ম্যাচটা খেলবেন ফ্রান্সের বিপক্ষে লুজনিকিতে। ফ্রান্সের বিপক্ষেও কি তার জ্বলন্ত এ রূপটাই দেখা যাবে? বিপর্যয়ের মুহূর্তে কি এই দক্ষ কা-ারির হাত ধরেই স্বপ্ন জয়ের পথে ফিরতে পারবে ক্রোয়েটরা? ভরসা করাই যায়। কেননা সময়মতো স্বরূপে ফেরার জন্যই তো তিনি ‘সুপার মারিও’!

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে