কেমন হবে এশিয়া কাপ

  মাইদুল আলম বাবু

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:২৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

মরুর বুকে আবারও এশিয়া কাপের আসর বসতে যাচ্ছে। এ নিয়ে তৃতীয়বার সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়ার দেশগুলো খেলবে। আর আট-দশটা ক্রিকেটীয় দেশের ভেন্যু ও আবহাওয়ার সঙ্গে আরব আমিরাতের সব কিছু মুদ্রার উল্টো পিঠের মতো। ইতিহাস বিবেচনা করলে ভারতই এ আসরের ফেভারিট।

ভারত এবারও শক্তির বিচারে এই ফেভারিট তকমা পাবে। ইতিহাসের বিচারে দেখা যাচ্ছে ভারত আরবের মাটিতে আগের দুটি আসরেই শিরোপা জয় করেছে। এবারের আসরে পাকিস্তান দ্বিতীয় শক্তিশালী দল। লড়াইটা পাক-ভারতের মধ্যেই হবে এমন গুঞ্জন তো আছেই তবে বাস্তবিকভাবে তাই।

২০১৬ সালের এশিয়া কাপ বাংলাদেশে হয়েছিল। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হয়েছিল সে আসর। স্বাগতিক বাংলাদেশ সেবার ফাইনালে খেলেছিল। ভারতের কাছে হেরে যেতে হয় সেবার। এবার বাংলাদেশ ভালো একটি দল নিয়ে খেলতে গেছে। ভিসা জটিলতা ছিল তামিম ইকবাল ও রুবেল হোসেনের। দুজনই অবশেষে যেতে পেরেছেন। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড রানার্সআপ। বাংলাদেশ দুবার ফাইনাল খেলেছে। একবার পাকিস্তান ও আরেকবার ভারতের কাছে হেরে যেতে হয়েছে।

এই এশিয়া কাপ কেমন হতে পারে সেটা অনেকটা ধারণা করা যায়। প্রথমে আলোচনায় আসা যাক আবহাওয়া আর ম্যাচের সময় নিয়ে। সংক্ষিপ্ত আকারে আলোচনা করা যেতে পারে সেটা।

অংশগ্রহণকারী দল : ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান ও হংকং।

ভেন্যু : সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাইয়ে এশিয়ার কাপের ১৩টি খেলা অনুষ্ঠিত হবে। শারজায় কোনো খেলা রাখা হয়নি।

ফরম্যাট : গত আসর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হলেও এবার ৫০ ওভারের মানে ওয়ানডে ফরম্যাটে হবে।

ম্যাচের সময় ও আবহাওয়া, তাপমাত্রা : বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে। স্থানীয় সময় তখন ৩টা ৩০ মিনিট। মরুর বুকে সূর্যের তাপ তখনো বিকিরণ করবে। দিনের বেলা তাপমাত্রা সেপ্টেম্বর মাসে ৩৩ থেকে ৪০ পর্যন্ত উঠতে পারে। রাতে যেটা নেমে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে যাবে। ৫০ ওভারের খেলা। খেলার বেশিরভাগ সময় রাতে তাই আবহাওয়া সহনীয় থাকবে। চিরাচরিত শুষ্ক আবহাওয়া এটা সবাই জানে। এটার পরিবর্তন হবে না।

বৃষ্টি : দুবাই ও আবুধাবিতে দিনে বৃষ্টির আশঙ্কা কম। সেপ্টেম্বরের রাতে স্বল্প বৃষ্টি হতে পারে।

উইকেট : সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্পিনারদের বিশেষ ভূমিকা থাকে। রাত যত গড়াবে স্পিনাররা সুবিধা আদায় করবেন। তবে শিশির সমস্যা দেখা দিলে স্পিনারদের জন্য কাজ কঠিন হয়ে যাবে। পেসারদের বল নিয়ে ধাঁধা সৃষ্টি চিরকাল ধরেই হয়েছে। বল যে গতিবেগে আসার কথা সে গতিবেগে আসবে না। পেসাররা যে গতি আশা করবেন তেমন পাবেনও না আর বাউন্সার আদায় করা কঠিন হবে। বল অনেকটা নেমে আসবে উইকেটে। তবে রান আসবে, এটা ব্যাটসম্যানদের জন্য হালকা সুখবর।

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম : ইতিহাস দেখে বোঝা যায় দিনে দিনে দুবাইয়ের উইকেট ব্যাটিং সহায়ক হয়েছে। তার মানে এবারও তাই থাকবে। এই গ্রাউন্ডে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি ইংল্যান্ডের। ২০১৫ সালে ৩৫৫ রান করেছিল তারা। আবার এই গ্রাউন্ডের সর্বনিম্ন ইনিংস শ্রীলংকার ১৩১ রান। আর সেটা ২০১১ সালে।

দুই ভেন্যুর দুরত্ব : দুবাই থেকে আবুধাবী ১৩৯ কিলোমিটার।

শেখ জায়েদ স্টেডিয়াম, আবুধাবি : এই গ্রাউন্ডে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছে পাকিস্তান-শ্রীলংকা। শ্রীলংকা ২০৮ রানে অলআউট হয়েছে। আর পাকিস্তান ৩ উইকেট হারিয়ে ৪২.৩ ওভারে জয় তুলে নেয়। তবে ব্যাটসম্যানদের দক্ষতার ওপর নির্ভর করছে কেমন হবে ম্যাচ।

শক্তির বিচারে এবার পাকিস্তান ও ভারতকেই এগিয়ে রাখতে হবে। শ্রীলংকা এই দুটি দল থেকে পিছিয়ে আছে। আর আফগানিস্তান আর হংকং শিরোপার লড়াইয়ে থাকছে না। ভারত অবশ্য বিরাট কোহলিকে বিশ্রাম দিয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রোহিত শর্মা। কোহলি ছাড়া সবাই আছেন। অন্যদিকে পাকিস্তান অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মোহাম্মদ হাফিজ ও ইমাদ ওয়াসিমকে রাখেনি দলে। শ্রীলংকান দল থেকে ছিটকে পড়েছেন দিনেশ চান্দিমাল। তবে শ্রীলংকা লাসিথ মালিঙ্গাকে সঙ্গে নিয়েছে।

ভারতের ব্যাটিং অর্ডার ও অলরাউন্ডার সমৃদ্ধ দল। অন্যদিকে পাকিস্তানও তাই। পাকিস্তানের পেস আক্রমণ দুর্দান্ত। আর ব্যাটিংয়েও দলটি ভালো করছে। এবারের এশিয়া কাপ দুটি গ্রুপে ভাগ করেছে। ৬টি দলকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। গ্রুপ ‘এ’তে রয়েছে হংকং, ভারত ও পাকিস্তান। আর গ্রুপ ‘বি’তে রয়েছে আফগাস্তিান, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা। দুটি গ্রুপ থেকে সেরা ৪টি দল নিয়ে হবে সুপার ফোর। সুপার ফোর থেকে ২টি দল ফাইনালে যাবে। ভারত ও পাকিস্তানের সুপার ফোর প্রায় নিশ্চিত। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার পথের কাঁটা হতে পারে আফগানিস্তান।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে