সুপার এইটে চোখ কিশোরীদের

  মামুন হোসেন

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নারী ফুটবলে ব্যস্ত সময় পার করছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে বয়সভিত্তিক দলটি। গত এক বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে তিনটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলা হয়ে গেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় দলের। আজ থেকে আরও একটি টুর্নামেন্ট শুরু হতে যাচ্ছে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাইপর্ব। ঘরের মাঠ কমলাপুর শহীদ সিপাহী বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে হবে বাছাইপর্ব। এশিয়ার ৩০টি দল ছয়টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সেরার লড়াইয়ে নামবে। বাংলাদেশ পড়েছে ‘এফ’ গ্রুপে; যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বাহরাইন, লেবানন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং লেবানন। প্রথম দিন অবশ্য মাঠে নামছে না বাংলাদেশ। আজ বেলা সাড়ে ১১টায় সংযুক্ত আরব আমিরাত খেলবে ভিয়েতনামের বিপক্ষে। বিকাল সাড়ে ৩টায় লেবানন মুখোমুখি হবে বাহরাইনের। বাংলাদেশ মাঠে নামবে ১৭ সেপ্টেম্বর; প্রতিপক্ষ বাহরাইন।

২০১৬ সালে ঘরের মাঠে এএফসির এ বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। সেবার চাইনিজ তাইপে, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কিরগিজস্তান এবং সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে চূড়ান্তপর্বে জায়গা করে নিয়েছিল গোলাম রব্বানী ছোটনের দল। থাইল্যান্ডে খেলেছিল চূড়ান্তপর্ব। এবার অবশ্য ফরম্যাটে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে এশিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা এএফসি। এবার দুই ধাপে বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে ছয় গ্রুপের ছয় চ্যাম্পিয়ন এবং দুই সেরা রানার্স-আপ পাবে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট। পরে ওই আট দল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে। সেখান থেকে দুই গ্রুপের দুই চ্যাম্পিয়ন ও দুই রানার্স-আপ দল পাবে চূড়ান্তপর্বের টিকিট।

সুপার এইটে চোখ বাংলাদেশেরÑ গতকাল টুর্নামেন্টপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এমন কথাই জানান বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। ঘরের মাঠে গ্রুপসেরা হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে পা রাখতে চায় মারিয়া, মনিকারা। তবে গত আসরের চেয়ে এবার গ্রুপটি শক্তিশালী। একমাত্র আরব আমিরাত ছাড়া অন্য দলগুলোর বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা নেই লাল-সবুজদের। ভিয়েতনাম, লেবানন এবং বাহরাইন অচেনা প্রতিপক্ষ। তাতে ভয়হীন কিশোরীরা। নিজ আঙিনায় স্বপ্নপূরণের আনন্দে মেতে উঠতে চান মারিয়া-তহুরা খাতুনরা। ফিফা র্যাংকিংয়ে অন্য দলগুলোর চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। তবে এএফসির র্যাংকিংয়ে এগিয়ে। গত আসরে চূড়ান্তপর্বে খেলে সাত নম্বর হয়েছিল বাংলাদেশ। এএফসিতে ভিয়েতনামের অবস্থান ১১ নম্বরে। বাকি দলগুলোর এএফসি র্যাংকিং ভালো নয়। তবে র্যাংকিং দিয়ে তো টুর্নামেন্ট জেতা যায় না। ভালো খেলেই সুপার এইটে যেতে চায় বাংলাদেশ। গত ডিসেম্বরে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতার পর থেকেই অনুশীলনের মধ্যে আছে বাংলাদেশ। এর পর দুটি টুর্নামেন্টে খেলেছে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। হংকংয়ে গত মার্চে জকি কাপ জেতার পর গত মাসে ভুটানে কিশোরী সাফে রানার্স-আপ হয়েছে। এবার মিশন এএফসি। তবে গত আসরে খেলা পুরো দলটিকে এবার পাচ্ছে না ছোটন। অনেক পরিবর্তন-পরিবর্ধন এসেছে। বয়সের কারণে অনেক খেলোয়াড় বাদ পড়েছে। গত আসরে খেলা মাত্র ১১ ফুটবলার আছেন বর্তমান দলে। এ ব্যাপারে ছোটন বলেন, গতবারের চেয়ে এ দলটাও খারাপ নয়। শামসুন্নাহার জুনিয়র, শাহেদা আক্তার রিপা, ঋতুপর্ণার মতো খেলোয়াড় এসেছে। তারা সাফে ভালো করেছে। এএফসিতে তারা ভালো করবে। তিনি আরও বলেন, ‘সাফ টুর্নামেন্টে আমাদের যে ভুল-ত্রুটিগুলো ছিল সেগুলো শুধরাতে চেষ্টা করছি। গতকাল দুটি সেশন করেছি। সুখের বিষয় হলো মেয়েরা খুব ভালোভাবে সেশনটা শেষ করেছে। গ্রুপের অন্য চারটি দলই শক্তিশালী, তবে আমরাও শক্তিশালী।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে