জেরুজালেম ইসরায়েলের রাজধানী : ট্রাম্প

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ০১:১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সময় এসেছে। অনেক আগেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। স্থানীয় সময় গতকাল দুপুর ১টায় (বাংলাদেশ সময় গত রাত ১২টা) এ ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তিনি তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের কাজ শুরু করতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন।
মিত্র দেশগুলোর সতর্কতা, আরব দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধর্মীয়ভাবে স্পর্শকতার জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করলেন। ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত এই স্থানটিকে ইসরায়েলের রাজধানী করা হলেÑ এর পরিণাম হবে ভয়াবহÑ এমন সতর্কবাণীও ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ সৌদি আরব, ফ্রান্সও ট্রাম্পকে এ ঘোষণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু সবকিছু উপেক্ষা করে ট্রাম্প রাজধানীর ঘোষণা দিলেন। খবর বিবিসি।
এ ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কূটনীতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে রক্তপাত হবে।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর যুক্তরাষ্ট্র হলো প্রথম রাষ্ট্র যারা জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিল।
ফিলিস্তিনিরা ছাড়াও পুরো আরব বিশ্বের নেতারা এ ঘোষণা থেকে বিরত থাকতে সাবধান করেছেন ট্রাম্পকে। তারা বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকেই নস্যাৎ করবে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত ‘পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য চরম এক উসকানি’।
ধর্মীয় দিক থেকে জেরুজালেম বিশ্বের সবচেয়ে স্পর্শকাতর একটি শহর। ইসলাম, ইহুদি এবং খ্রিস্ট ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র ধর্মীয় স্থাপনার অনেকগুলো এ শহরে অবস্থিত।
১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল। পরে তা জেরুজালেমের অংশ ঘোষণা করা হয়। তবে এটি আন্তর্জাতিকভাবে কখনো স্বীকৃতি পায়নি।
ফিলিস্তিনি নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণাকে কবর দিয়ে দেওয়া। তাদের কথা, জেরুজালেম তাদের না থাকলে কোনো টেকসই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন কখনই সম্ভব নয়।
যদিও গত দশকগুলোয় পূর্ব জেরুজালেমের বহু জায়গায় ইহুদি বসতি বানিয়েছে। কিন্তু তার পরও এখানকার সিংহভাগ বাসিন্দা ফিলিস্তিনি, যারা শত শত বছর ধরেই এ শহরে বসবাস করছেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও মেনে নিয়েছে, জেরুজালেম শহরের মর্যাদা, মালিকানা নির্ধারিত হবে ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে চূড়ান্ত শান্তি রফার অংশ হিসেবে। জাতিসংঘের প্রস্তাবে তা লিখিত আকারে রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে