১৮ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরায় নির্বাচন

দুই যুগের বামশাসন টিকবে তো?

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরাতে বামপন্থীরা গত পঁচিশ বছর ধরে একটানা শাসন করছে, সেখানে এবার তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি ও উপজাতীয় দল আইপিএফটির জোট। ভারতের এই একটিমাত্র রাজ্যে বিজেপি ও কমিউনিস্টদের সরাসরি লড়াই আর সে কারণেই ত্রিপুরাতে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটি আলাদা মাত্রা পেয়ে গেছে। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে সেই পরিস্থিতিই ওঠে এসেছে।

গত সোমবার রাতে আগরতলা শহরের সূর্য চৌমহনি মোড়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন দিল্লিতে বিজেপি তথা আরএসএসের অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা রাম মাধব, যিনি গত ছমাস ধরে ত্রিপুরার মাটি কামড়ে পড়ে আছেন। তিন বছর আগেও বিজেপি এ রাজ্যে ‘অতি দুর্বল একটি শক্তি’ হলেও এবারের নির্বাচনে ষাট আসনের বিধানসভায় অন্তত চল্লিশটি আসন যে তারা পাবেই, সে কথা দৃঢ়প্রত্যয়ের সঙ্গে ঘোষণা করেন তিনি।

এই স্বপ্ন সত্যি করতে বিজেপি এবারে ত্রিপুরার মতো ছোট রাজ্যে যে বিপুল অর্থ আর সাংগঠনিক শক্তি ব্যয় করেছে, তা প্রায় নজিরবিহীন।

এদিকে বলিউডের একটি আসন্ন সিনেমা, যার নাম ‘লাল সরকার’, সেটির কথাও ত্রিপুরার নির্বাচনী মৌসুমে এখন লোকের মুখে-মুখে ফিরছে। ত্রিপুরার বাম শাসনে কীভাবে মানুষ নির্যাতিত ও অত্যাচারিত, তা নিয়ে তৈরি এই সিনেমার টুকরো-টুকরো ছবি এ রাজ্যে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকে ছেয়ে আছে আর এর নির্মাতারাও বিজেপির ঘনিষ্ঠ বলেই অভিযোগ।

মজার ব্যাপার হলোÑ সিপিএমের নির্বাচনী প্রচারেও কিন্তু তাদের আক্রমণের প্রধান নিশানা প্রধানমন্ত্রী মোদী। ফাঁকা প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে কীভাবে তিনি দেশের মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছেন, বিধানসভা ভোটের প্রচারেও সেটিই তুলে ধরা হচ্ছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে চৌত্রিশ বছরের বাম শাসনের শেষ দিকে যেমন মানুষ তিতিবিরক্ত ছিল, অবিকল সেই একই ধরনের কথা কিন্তু ত্রিপুরাতেও আজকাল গরিব মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে। ফলে পঁচিশ বছরের একটানা শাসনের পর বেশ কিছুটা ‘অ্যান্টি ইনকামবেন্সি’ বা শাসক দলের প্রতি বিদ্বেষ বামপন্থিদেরও সামলাতে হচ্ছে। তার সঙ্গে বিজেপির ছুড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জ ত্রিপুরাতে গত পঁচিশ বছরের মধ্যে তাদের যে সবচেয়ে শক্ত লড়াইয়ের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে