সত্যিকারের ৩ সুপারহিরো

কোচ একাপল চ্যান্তাওং পরের স্বার্থ আগে ভাবেন

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চূড়ান্ত উদ্ধারাভিযান শুরু হয়েছিল ৮ জুলাই। প্রতিদিন চারজন করে উদ্ধারের ছক আঁটা হয়েছিল। খুদে ফুটবলারদের সঙ্গে আটকেপড়া সহকারী কোচ একাপল চ্যান্তাওং আঁকে বের হয়ে আসেন তৃতীয় দিন, সবার শেষে। এটি নিশ্চিত নয়, নিজেই নাকি কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, তিনি সবশেষে উদ্ধার হবেন। তার দলের অন্য খেলোয়াড়রা বলেছে, আঁকের কাছে পরের স্বার্থ সর্বপ্রথমে। ফলে সবার ধারণা, কিশোরদের আগে উদ্ধার করার অনুরোধ তিনি জানিয়েছিলেন।

আবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যে বেশি অসুস্থ তাকে আগে উদ্ধার করা হবে। এ হিসাবে আঁকে সবচেয়ে দুর্বল ছিলেন। এর কারণ হিসাবে উদ্ধারকারী ডুবুরিরা জানিয়েছেন, গুহায় নিখোঁজ হওয়ার প্রথম ১০ দিন তিনি নিজে তেমন কিছুই খাননি। জল বা শুকনা খাবার যতটুকুই ছিল, সবটাই একটু একটু করে কিশোরদের খাইয়েছিলেন তিনি। ফলে নিজে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

২৩ জুন ‘মু পা’ দলের ১৩ সদস্য নিখোঁজ হন। ২ জুলাই গুহার চার কিলোমিটার ভেতর মাটির ৮০০ মিটার নিচে তাদের জীবিত সন্ধান পান ব্রিটিশ দুই ডুবুরি। কিন্তু এর আগে ও রকম ঘুটঘুটে ভয়ঙ্কর অন্ধকার গুহায় কিশোরদের মনোবল তিনি চাঙ্গা রেখেছিলেন। ওদের মেডিটেশন করান। পরামর্শ দিয়েছিলেন, ‘ওদের ধ্যান করতে হবে। শুয়ে থাকতে হবে। যথাসম্ভব শরীর না নড়ানো যেন শক্তি ক্ষয় কম হয়। আর ধৈর্য ধরা ও বিশ্বাস রাখতে হবে।’ কিশোর ফুটবল দলটির এক সদস্য চ্যান্তাহান সাকলাকুল (সে গুহায় বেড়াতে যায়নি) বলেছে, ‘আঁকে খুব ভালো কোচ। তিনি কোনো দিন আমাদের চাপ দেননি। প্রতিটা ম্যাচের আগে কয়েক মিনিট আমাদের মেডিটেশন করাতেন। বলতেন, শান্ত থাকা জরুরি। আর পুরো মনোযোগ দিতে বলতেন খেলায়।’

গুহায় যায়নি এমন আরেক কিশোর সদস্য সোংপল ক্যানথোওং বলেছে, ‘প্রতিটা ম্যাচ শেষে কোচ আমাদের সবাইকে আগে জলপান করান। সবার শেষে নিজে জলপান করেন। তিনি সবসময়ই নিজের আগে অন্যের কথা ভাবেন।’ শৈশবেই মা-বাবা ও পরিবারের সবাইকে হারান একাপল চ্যান্তাওং। এর পর তিনি বেশ কয়েক বছর ভিক্ষু হিসেবে ছিলেন। পরে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন কিশোরদের কোচ হিসেবে। তথ্যসূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে