আফগান যুদ্ধে পিছু হটছে ন্যাটো?

ট্রাম্পের চাপে ব্যয় বাড়াতে রাজি নেতৃবৃন্দ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৮, ০৮:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

পুরোনো ছবি
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে গেল পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সম্মেলন। এবারের সম্মেলনে দুটি বিষয় নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়েছে। প্রথম দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ওপর ব্যয় বাড়াতে ব্যাপক চাপ দিয়েছেন। আর দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ গতকাল আলোচনার কেন্দ্রে ছিল আফগান যুদ্ধ।

ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর নেতারা চাইছে দীর্ঘমেয়াদি এ যুদ্ধের অবসান হোক। এ যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন দেশগুলোর নেতারা। অথচ যে ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ অঙ্গীকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আফগান যুদ্ধ শুরু করেছিল, সেটি অপূর্ণই থেকে গেল। এর প্রমাণ মিলল হাতেনাতেই। গতকালও তালেবান জঙ্গিরা সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে অন্তত ৩০ জনকে হত্যা করেছে।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ খুশিমনেই ব্রাসেলস ছেড়েছেন। গতকাল তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি খুবই খুশি যে ন্যাটো সদস্যরা তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধিতে রাজি হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আজ বড় অগ্রগতি অর্জন করেছি। ন্যাটোর শক্তি বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই অঙ্গীকারবদ্ধ। তার কথায়, দুই দিন আগের চেয়ে ন্যাটো এখন বেশি শক্তিশালী।

ন্যাটো সামরিক জোটের সদস্যদের সামরিক ব্যয় বাড়ানোর ওপর আবারও জোর দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সদস্যদেশকে তাদের প্রতিশ্রুত জাতীয় আয়ের মোট ৪ শতাংশ ন্যাটোর সামরিক বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তবে বৈঠক শেষে দেশগুলো জিডিপির দুই শতাংশ দিতে সম্মত হয়েছে।

ন্যাটো সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় জোটের বাইরের সদস্যদেরও স্বাগত জানিয়েছেন নেতারা। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ আশা করছেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য অর্থ সরবরাহ করতে জোট একমত হবে। এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে সেনাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য বাড়তি ৪৪০ সেনা পাঠাবে। আফগান বাহিনীকে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্রও ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে বাড়তি ৩ হাজার সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এতে দেশটিতে মার্কিন সেনাসংখ্যা মোট ১৫ হাজারে দাঁড়াবে।

ন্যাটো ২০১৪ সালে আফগানিস্তানে যুদ্ধাভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করে আফগান বাহিনীর হাতে নিরাপত্তাভার ছেড়ে দেওয়ার পর দেশজুড়ে জঙ্গিদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। যদিও ন্যাটো সেনারা এখনো আফগানিস্তানে অবস্থান করছে। এর আগে ক্ষমতায় আসার পর পরই ট্রাম্প বেশ কয়েকবার ট্রাম্প ন্যাটো ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এই বৈঠকে তা নিয়ে কথা বলেননি তিনি। তবে প্রথম দিন জার্মানির সমালোচনা করে বলেছেন, রাশিয়া দ্বারা বন্দি হয়ে আছে জার্মানি। খবর বিবিসি ও রয়টার্স।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে